ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার বেশি তথ্য ফাঁসকারীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত: ট্রাম্প মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজে জড়িত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ৪ জেলে কারাগারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার সৌদিতে কঠোর বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী ইরানে জিবিইউ-৪৩/বি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর মোজাম্বিক থেকে দেশে ফিরল প্রবাসী জসিমের মৃত অবস্থায় পাওয়া পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৯ জনের প্রাণহানি আইএমএফের ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত: অর্থমন্ত্রী

ঝিনাইদহে চালের বাজারে আগুন

  • আপডেট সময় : ০১:০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭
  • / 285
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ বোরোর ভালো ফলন ও দামে ঝিনাইদহের চাষিরা বেজায় খুশি হলেও খুশি হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করেছে বলে জানান বেশ কয়েকজন ভোক্তা। সাধারণ মানুষ জানান, গত দেড় মাসে বাজারে চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ছয় থেকে সাত টাকা, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে মাত্রাতিরিক্ত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক শাহ আকরামুল হক জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইদহে ৭২ হাজার ২৬৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয় ৮৩ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমি।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০ হাজার ২৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ১৫ হাজার ২০ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে পাঁচ হাজার ৬৩০ হেক্টর, মহেশপুরে ২০ হাজার ১৮০ হেক্টর, শৈলকূপায় ১৪ হাজার ১০০ হেক্টর এবং হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আট হাজার ২৭৫ হেক্টরে বোরো চাষ হয়। হেক্টরপ্রতি সাড়ে টন টন হিসাবে তিন লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৭ টন চাল উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ মার্চ পর্যন্ত অনাবৃষ্টি, এপ্রিলের অতিবৃষ্টি এবং বিক্ষিপ্তভাবে লিফব্লাস্টের আক্রমণ সত্ত্বেও ভালো উৎপাদন হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারে দাম ভালো হওয়ায় খুশি জেলার কৃষক।

এদিকে শৈলককূপার মনোহরপুর গ্রামের কৃষক রাশেদুল হাসান জানান, বোরো ধানের বাজারদর বেশি হলেও এবার ধান কাটার সময় কৃষি শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বিগত মৌসুুুুুুুুুমগুলোয় একজন কৃষিশ্রমিকের মজুরি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা হলেও এবার তা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় উঠেছে। তাছাড়া রোপণ মৌসুমে প্রচন্ড খরার কারণে কৃষকদের বেশি টাকা দিয়ে সেচের পানি কিনতে হয়েছে; যা উৎপাদন ব্যয়ে বেশ প্রভাব ফেলেছে।

ঝিনাইদহ কাঁচাবাজারে দিনমজুর আবদুল হালিম জানান, মাস দুয়েক আগেও প্রতি কেজি মোটা চাল ৩০-৩২ টাকার বেশি ছিল না। এখন তা ৩৮-৪০ টাকা। সাধন কুমার দাস নামে এক সরকারি চাকুরে জানান, গত বছর বেতন বেড়ে যাওয়ায় তারা ভেবেছিলেন সংসারটা বুঝি ভালোভাবেই চলবে। কিন্তু এখন হচ্ছে উল্টো। চালসহ মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদির দামও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। তার মতো মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বাজারদর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঝিনাইদহে চালের বাজারে আগুন

আপডেট সময় : ০১:০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ বোরোর ভালো ফলন ও দামে ঝিনাইদহের চাষিরা বেজায় খুশি হলেও খুশি হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। দিনের পর দিন চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করেছে বলে জানান বেশ কয়েকজন ভোক্তা। সাধারণ মানুষ জানান, গত দেড় মাসে বাজারে চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ছয় থেকে সাত টাকা, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে মাত্রাতিরিক্ত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক শাহ আকরামুল হক জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইদহে ৭২ হাজার ২৬৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয় ৮৩ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমি।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০ হাজার ২৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ১৫ হাজার ২০ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে পাঁচ হাজার ৬৩০ হেক্টর, মহেশপুরে ২০ হাজার ১৮০ হেক্টর, শৈলকূপায় ১৪ হাজার ১০০ হেক্টর এবং হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আট হাজার ২৭৫ হেক্টরে বোরো চাষ হয়। হেক্টরপ্রতি সাড়ে টন টন হিসাবে তিন লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৭ টন চাল উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ মার্চ পর্যন্ত অনাবৃষ্টি, এপ্রিলের অতিবৃষ্টি এবং বিক্ষিপ্তভাবে লিফব্লাস্টের আক্রমণ সত্ত্বেও ভালো উৎপাদন হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারে দাম ভালো হওয়ায় খুশি জেলার কৃষক।

এদিকে শৈলককূপার মনোহরপুর গ্রামের কৃষক রাশেদুল হাসান জানান, বোরো ধানের বাজারদর বেশি হলেও এবার ধান কাটার সময় কৃষি শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বিগত মৌসুুুুুুুুুমগুলোয় একজন কৃষিশ্রমিকের মজুরি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা হলেও এবার তা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় উঠেছে। তাছাড়া রোপণ মৌসুমে প্রচন্ড খরার কারণে কৃষকদের বেশি টাকা দিয়ে সেচের পানি কিনতে হয়েছে; যা উৎপাদন ব্যয়ে বেশ প্রভাব ফেলেছে।

ঝিনাইদহ কাঁচাবাজারে দিনমজুর আবদুল হালিম জানান, মাস দুয়েক আগেও প্রতি কেজি মোটা চাল ৩০-৩২ টাকার বেশি ছিল না। এখন তা ৩৮-৪০ টাকা। সাধন কুমার দাস নামে এক সরকারি চাকুরে জানান, গত বছর বেতন বেড়ে যাওয়ায় তারা ভেবেছিলেন সংসারটা বুঝি ভালোভাবেই চলবে। কিন্তু এখন হচ্ছে উল্টো। চালসহ মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদির দামও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। তার মতো মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বাজারদর।