ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

হামলা-পাল্টা হামলা ও ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ: টিকবে কি আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তি?

  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 14
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত শান্তি আলোচনাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি সমঝোতাকে কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোহার কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখতে এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ওয়াশিংটন। এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন বিস্ফোরণের খবর এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ার পর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এরপর আবারও ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে ইরানের বুশেহর, কোনারক, চোগাদক এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। তবে এসব হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কার্যত শেষ। তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘আবর্জনা’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনাকে সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করেন। তবে পরদিন এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ তাদের লক্ষ্য নয় এবং তেহরান এখনও সমঝোতা করতে চায়।

এদিকে মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, দোহায় দুই পক্ষের কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দল এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং দাদাগিরির মূল্য দিতে হবে। তাদের ভাষ্য, হামলা চলতে থাকলে আলোচনা এগোনো সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় দুই পক্ষই নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের রুট এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৬০ দিন নিরাপদ ও বিনা খরচে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের কথা বলা হলেও কোন রুট ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। একইভাবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি চুক্তিতে থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ ওই সমঝোতার অংশ না হওয়ায় বাস্তবায়ন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হামলা-পাল্টা হামলা ও ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ: টিকবে কি আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তি?

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত শান্তি আলোচনাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি সমঝোতাকে কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোহার কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখতে এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ওয়াশিংটন। এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন বিস্ফোরণের খবর এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ার পর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এরপর আবারও ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে ইরানের বুশেহর, কোনারক, চোগাদক এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। তবে এসব হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কার্যত শেষ। তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘আবর্জনা’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনাকে সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করেন। তবে পরদিন এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ তাদের লক্ষ্য নয় এবং তেহরান এখনও সমঝোতা করতে চায়।

এদিকে মার্কিন এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, দোহায় দুই পক্ষের কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দল এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং দাদাগিরির মূল্য দিতে হবে। তাদের ভাষ্য, হামলা চলতে থাকলে আলোচনা এগোনো সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় দুই পক্ষই নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের রুট এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৬০ দিন নিরাপদ ও বিনা খরচে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের কথা বলা হলেও কোন রুট ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। একইভাবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি চুক্তিতে থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ ওই সমঝোতার অংশ না হওয়ায় বাস্তবায়ন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা
বিডিসংবাদ/এএইচএস