ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনীর অভিযান

  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 18
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

দুই দিন আগে ভয়াবহ বন্যায় জলমগ্ন হয়ে পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধারে শুক্রবার হেলিকপ্টারে করে অভিযান চালিয়েছে নেপাল সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করা। ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। তবে কাজটি কঠিন। কারণ সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলো খুঁজে বের করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিকূল আবহাওয়া ও দ্রুতগতির বন্যার পানির মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন পরিস্থিতিতে কিছুক্ষণ আগে সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নেপাল সেনাবাহিনীর একটি দল সফলভাবে উদ্ধার করেছে।’

এতে বলা হয়, ‘একই সুড়ঙ্গে আটকা পড়া আরও শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী এখনও কাজ করছে।’

উদ্ধার বা আটকা পড়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার নেপালের উত্তর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন।

ত্রিশূলী উপত্যকার অন্যান্য বাঁধ প্রকল্প থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

যে স্থানে কাজ করছিলেন সেখান থেকে আকাশপথে সরিয়ে নেওয়া দেব শ্রেষ্ঠ এএফপিকে বলেন, ‘সেখানে অন্তত ৪০০ শ্রমিক ছিলেন। যতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন।’

শ্রমিক বুদ্ধ তামাং বলেন, বন্যার পানি আঘাত হানার সময় তিনি বাঁধের একটি সুড়ঙ্গে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরে তিনি সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সহায়তা পান।

তামাং বলেন, ‘আমি সুড়ঙ্গে থাকায় বেঁচে গেছি।’ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকা থাকার পর বৃহস্পতিবার তাকে আকাশপথে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘অন্য পাশে কাজ করা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সবাই পানির স্রোতে ভেসে গেছেন।’

আরেক শ্রমিক অর্জুন কুমার তামাং তিনি যেখানে কাজ করছিলেন, সেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘কতজন মারা গেছেন জানি না। তবে পানির স্রোতের প্রচণ্ডতায় সবকিছু ভেসে গেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবারের এই দুর্যোগের কারণ ছিল হিমবাহ ধসে পড়া। এর ফলে বরফমিশ্রিত ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত সৃষ্টি হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ গলে যাচ্ছে। এতে হিমবাহের হ্রদের বন্যা ও হিমবাহ ধসে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

ধ্বংসযজ্ঞের কারণে পার্বত্য এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে সড়ক ও সেতুই প্রায়ই চলাচলের একমাত্র পথ।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ খাতও। চালু ও নির্মাণাধীন উভয় ধরনের বেশ কয়েকটি প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনীর অভিযান

আপডেট সময় : ০৯:২২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

দুই দিন আগে ভয়াবহ বন্যায় জলমগ্ন হয়ে পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধারে শুক্রবার হেলিকপ্টারে করে অভিযান চালিয়েছে নেপাল সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করা। ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। তবে কাজটি কঠিন। কারণ সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলো খুঁজে বের করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিকূল আবহাওয়া ও দ্রুতগতির বন্যার পানির মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন পরিস্থিতিতে কিছুক্ষণ আগে সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নেপাল সেনাবাহিনীর একটি দল সফলভাবে উদ্ধার করেছে।’

এতে বলা হয়, ‘একই সুড়ঙ্গে আটকা পড়া আরও শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী এখনও কাজ করছে।’

উদ্ধার বা আটকা পড়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার নেপালের উত্তর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন।

ত্রিশূলী উপত্যকার অন্যান্য বাঁধ প্রকল্প থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

যে স্থানে কাজ করছিলেন সেখান থেকে আকাশপথে সরিয়ে নেওয়া দেব শ্রেষ্ঠ এএফপিকে বলেন, ‘সেখানে অন্তত ৪০০ শ্রমিক ছিলেন। যতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন।’

শ্রমিক বুদ্ধ তামাং বলেন, বন্যার পানি আঘাত হানার সময় তিনি বাঁধের একটি সুড়ঙ্গে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরে তিনি সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সহায়তা পান।

তামাং বলেন, ‘আমি সুড়ঙ্গে থাকায় বেঁচে গেছি।’ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকা থাকার পর বৃহস্পতিবার তাকে আকাশপথে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘অন্য পাশে কাজ করা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সবাই পানির স্রোতে ভেসে গেছেন।’

আরেক শ্রমিক অর্জুন কুমার তামাং তিনি যেখানে কাজ করছিলেন, সেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘কতজন মারা গেছেন জানি না। তবে পানির স্রোতের প্রচণ্ডতায় সবকিছু ভেসে গেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবারের এই দুর্যোগের কারণ ছিল হিমবাহ ধসে পড়া। এর ফলে বরফমিশ্রিত ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত সৃষ্টি হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ গলে যাচ্ছে। এতে হিমবাহের হ্রদের বন্যা ও হিমবাহ ধসে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

ধ্বংসযজ্ঞের কারণে পার্বত্য এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে সড়ক ও সেতুই প্রায়ই চলাচলের একমাত্র পথ।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ খাতও। চালু ও নির্মাণাধীন উভয় ধরনের বেশ কয়েকটি প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস