বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে আট সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন
- আপডেট সময় : ০৯:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
দেশের সবকটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ১৩ অক্টোবর এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কমিটির মূল দায়িত্ব হলো বিমানবন্দরের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করা। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে কাজ করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রয়োজনে কমিটি যেকোনো সময় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং কমিটির সভা প্রয়োজন সাপেক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব পেয়েছে।
বিমানবন্দরের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী ও মালামাল তল্লাশি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বগুলো বিভিন্ন সংস্থা পালন করে থাকে। একাধিক সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে যাত্রীদের সুরক্ষা এবং উড়োজাহাজ চলাচলের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সরকার গঠিত এই কমিটি বিমানবন্দরের বিদ্যমান নিরাপত্তা ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। যদিও প্রজ্ঞাপনে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঘাটতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবুও কমিটির সুপারিশ দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থার সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী প্রশাসনিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাই আগামী দুই মাসের মধ্যে কমিটির সুপারিশগুলো কী রূপ নেয়, তা দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।























