ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ বাড়ানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতির বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে আট সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে চায়না এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন চাইলেন জ্বালানিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিরাপত্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস লালমোহনে নজরুল বর্ষ উদযাপন এআই দিয়ে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানোকে অপরাধ বললেন শাহজালালে ৪ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক আটক অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার বেশি তথ্য ফাঁসকারীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত: ট্রাম্প মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজে জড়িত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ বাড়ানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো, উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগের সুফল দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই খাদ্য উৎপাদন টেকসই করতে গবেষণায় বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।

পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি ‘খাদ্য নিরাপত্তায় ব্রি’র অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতার পর তীব্র খাদ্য ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সফল প্রয়োগই এই অগ্রগতির চাবিকাঠি। ধান রোপণ থেকে শুরু করে আগাছা দমন পর্যন্ত বিভিন্ন যন্ত্রের ব্যবহার কৃষি ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। অনেক ক্ষেত্রে চাষিরা তাদের উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না, যা তাদের ধান চাষে নিরুৎসাহিত করছে। এ সংকট কাটাতে ধান উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। ফলে ধান চাষে তাদের আগ্রহ কমছে এবং তারা বিকল্প ফসল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের মতো বাংলাদেশেও ধান গবেষণায় বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি, কৃষি বিজ্ঞানীদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে সমাজ উপকৃত হচ্ছে, তাই বিজ্ঞানীদের কাজের অনুকূল পরিবেশ, উপযুক্ত বেতনকাঠামো ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। চাকরি শেষে বিজ্ঞানীদের পেনশন না পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি ‘অমানবিক’ আখ্যায়িত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। একইসাথে সরকারের পক্ষ থেকে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি ঢাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সভার আগে রাষ্ট্রপতি ব্রির ইনোভেশন স্টল, জিন ব্যাংক, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা মাঠ ঘুরে দেখেন। ধান গবেষণায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে তিনি পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ বাড়ানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো, উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগের সুফল দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই খাদ্য উৎপাদন টেকসই করতে গবেষণায় বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।

পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি ‘খাদ্য নিরাপত্তায় ব্রি’র অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতার পর তীব্র খাদ্য ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সফল প্রয়োগই এই অগ্রগতির চাবিকাঠি। ধান রোপণ থেকে শুরু করে আগাছা দমন পর্যন্ত বিভিন্ন যন্ত্রের ব্যবহার কৃষি ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। অনেক ক্ষেত্রে চাষিরা তাদের উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না, যা তাদের ধান চাষে নিরুৎসাহিত করছে। এ সংকট কাটাতে ধান উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। ফলে ধান চাষে তাদের আগ্রহ কমছে এবং তারা বিকল্প ফসল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের মতো বাংলাদেশেও ধান গবেষণায় বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি, কৃষি বিজ্ঞানীদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে সমাজ উপকৃত হচ্ছে, তাই বিজ্ঞানীদের কাজের অনুকূল পরিবেশ, উপযুক্ত বেতনকাঠামো ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। চাকরি শেষে বিজ্ঞানীদের পেনশন না পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি ‘অমানবিক’ আখ্যায়িত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। একইসাথে সরকারের পক্ষ থেকে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি ঢাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সভার আগে রাষ্ট্রপতি ব্রির ইনোভেশন স্টল, জিন ব্যাংক, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা মাঠ ঘুরে দেখেন। ধান গবেষণায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে তিনি পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।