ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

নরসিংদীর নিলক্ষায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের পূনরায় টেটা ও বন্দুক যুদ্ধ

  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭
  • / 514
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 নরসিংদী  প্রতিনিধিঃ  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই আওয়ামীলীগ নেতার দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০, দুটি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও ২০টি বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে নরসিংদীর রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চল নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর ও দড়িগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুর ইসলাম এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। আহতরা পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে ভৈরব, নবীনগরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তাজুল ইসলাম নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হয় এবং রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক সরকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়। এর পর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে তাজুল ইসলাম গ্র“প বনাম হক সরকার গ্র“প কমবেশী ১০/১২টি টেটা ও বন্দুক যুদ্ধ হয়। এতে ঐ ইউনিয়নের নয়টি তাজা প্রাণহানী, পাঁচশতাধিক ব্যক্তি আহত, অর্ধশতাধিক বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ ও দুই শতাধিক বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কারণে এ সহিংসতা আর এগোতে পারেনি। দীর্ঘ সাত মাস পর পূনরায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে উভয় গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে রায়পুরা সার্কেলের এএসপি বেলাব হোসেনের নেতৃত্বে নরসিংদী পুলিশ লাইন ও রায়পুরা থানার একশত পয়ত্রিশ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করেছে এবং সাময়িকভাবে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে এনেছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত উভয় গ্র“প মুখোমুখী অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় শুরু হতে পারে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ঘটতে পারে আরো অসংখ্য প্রাণহানীর ঘটনা।

নরসিংদীর  অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, রাজনৈতিক কারণে রায়পুরার চরাঞ্চল নিলক্ষা ও বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে এই বন্দুক ও টেটাযুদ্ধকে জিয়িয়ে রাখা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের কিছু অসৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ফায়দা হাসিল হচ্ছে অপরদিকে পয়সা কামচ্ছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম সরকার। তিনি দু’পক্ষ থেকেই টাকা নিচ্ছেন এবং দ’ুপক্ষকেই সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করছেন। যে কারণে পুলিশের স্বদিচ্ছা থাকলেও এ সংঘর্ষকে সমূলে উপড়ে ফেলতে চাচ্ছেনা। এ কারণে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও প্রশাসন সম্পর্কে মানুষের মনে খারাপ ধারনা জন্ম নিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নরসিংদীর নিলক্ষায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের পূনরায় টেটা ও বন্দুক যুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৪:২৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭

 নরসিংদী  প্রতিনিধিঃ  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই আওয়ামীলীগ নেতার দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০, দুটি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও ২০টি বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে নরসিংদীর রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চল নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর ও দড়িগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুর ইসলাম এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। আহতরা পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে ভৈরব, নবীনগরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তাজুল ইসলাম নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হয় এবং রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক সরকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়। এর পর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে তাজুল ইসলাম গ্র“প বনাম হক সরকার গ্র“প কমবেশী ১০/১২টি টেটা ও বন্দুক যুদ্ধ হয়। এতে ঐ ইউনিয়নের নয়টি তাজা প্রাণহানী, পাঁচশতাধিক ব্যক্তি আহত, অর্ধশতাধিক বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ ও দুই শতাধিক বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কারণে এ সহিংসতা আর এগোতে পারেনি। দীর্ঘ সাত মাস পর পূনরায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে উভয় গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে রায়পুরা সার্কেলের এএসপি বেলাব হোসেনের নেতৃত্বে নরসিংদী পুলিশ লাইন ও রায়পুরা থানার একশত পয়ত্রিশ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করেছে এবং সাময়িকভাবে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে এনেছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত উভয় গ্র“প মুখোমুখী অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় শুরু হতে পারে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ঘটতে পারে আরো অসংখ্য প্রাণহানীর ঘটনা।

নরসিংদীর  অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, রাজনৈতিক কারণে রায়পুরার চরাঞ্চল নিলক্ষা ও বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে এই বন্দুক ও টেটাযুদ্ধকে জিয়িয়ে রাখা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের কিছু অসৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ফায়দা হাসিল হচ্ছে অপরদিকে পয়সা কামচ্ছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম সরকার। তিনি দু’পক্ষ থেকেই টাকা নিচ্ছেন এবং দ’ুপক্ষকেই সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করছেন। যে কারণে পুলিশের স্বদিচ্ছা থাকলেও এ সংঘর্ষকে সমূলে উপড়ে ফেলতে চাচ্ছেনা। এ কারণে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও প্রশাসন সম্পর্কে মানুষের মনে খারাপ ধারনা জন্ম নিচ্ছে।