ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈশ্বরদীতে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকের প্রাণহানি জাতিসংঘ সফর সংক্ষিপ্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ভিয়েতনামের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যু: শেখ হাসিনাসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা মেঘ হয়ে ঝরে পড়ার আকুতি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক, সেচ নিয়ে শঙ্কা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে রোমহর্ষক সাক্ষ্য সাবেক সেনা কর্মকর্তার চীন ও ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের গ্রীষ্মে রেকর্ড যাত্রী পরিবহন এমিরেটসের, শীতের বুকিংয়েও জোর সম্ভাবনা জাতিসংঘ অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

  • আপডেট সময় : ০১:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ গণহত্যাকারীদের আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তের জাল বুনছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকার বারবার তাগিদ দিলেও ভারত তাতে সাড়া দিচ্ছে না। বরং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরদিনই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের নাটক সাজানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রিজভী আরও বলেন, ভারত নিজেদের বন্ধু রাষ্ট্র দাবি করলেও তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ। একাত্তরের পর ১৪০০ তরুণ, ছাত্র ও শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে শেখ মুজিবের খুনের দায়ে অভিযুক্ত মেজরের মতো অপরাধীদের ফেরত দিলেও, কেন শেখ হাসিনার মতো ব্যক্তিদের ভারতের কাছে সমর্পণ করা হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, এর পেছনে নিশ্চিতভাবে কোনো গভীর চক্রান্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একজন স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে সাইডলাইনে বসার মতো অসম্মানজনক আমন্ত্রণ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের পরেই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিট নষ্ট হওয়ার ঘোষণা ভারতের পক্ষ থেকে একটি কূটকৌশল। সাধারণ মানুষও এই কৌশলের বিষয়টি বুঝতে পারছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, গত ১৬ বছরের দুঃশাসন ও লুণ্ঠন শেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায়ে সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমানে পার্লামেন্ট ও বাইরে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করতে পারছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রতিফলন। অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে চর্চা ছিল, বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে এবং সরকারের মূল লক্ষ্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস সংকট সরকারের তৈরি নয়, বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের ফলে এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনার আমলের তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে আড়াই থেকে তিন গুণ বেড়েছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মধুর ক্যান্টিন বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, একাত্তরের অর্জন ও শহীদ মধুর আত্মত্যাগকে অপমান করার কোনো অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ সহ্য করবে না। যারা মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানানোর চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ নেওয়া। মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্র-জনতা এই অপতৎপরতা প্রতিহত করবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন, আনিসুজ্জামান খোকন, মেজর (অব.) মিজানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যিনি একাত্তরের পরে ১৪০০ তরুণ-কিশোর, ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকের রক্ত পান করেছেন, সেই রক্তপিপাসু শেখ হাসিনাকে আপনারা আশ্রয় দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ বাংলাদেশ সরকার আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাদের বারবার ফেরত চেয়েও পাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার সাথে যারা গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তারাও সেখানে পালিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি অতীতে শেখ মুজিবের খুনের দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক মেজরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা যদি সেই সাবেক মেজরকে ধরে শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করতে পারেন, তবে ১৪০০ মানুষকে হত্যাকারী শেখ হাসিনাকে কেন হস্তান্তর করছেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুখে বন্ধুত্বের সুমধুর কথা বললেও ভেতরে ভেতরে শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে আপনারা চক্রান্তের জাল বুনছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সুইচ তো ভারতের ঝাড়খণ্ডে, তারা যখন ইচ্ছা বন্ধ করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘বিরোধী মতের ওপর জুলুম নেই, দেশ গণতান্ত্রিক পথে’ বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে দেশে লুণ্ঠন, ব্যাংকের টাকা পাচার, গুম ও গুপ্তহত্যা চলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

আপডেট সময় : ০১:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ গণহত্যাকারীদের আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তের জাল বুনছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকার বারবার তাগিদ দিলেও ভারত তাতে সাড়া দিচ্ছে না। বরং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরদিনই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের নাটক সাজানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রিজভী আরও বলেন, ভারত নিজেদের বন্ধু রাষ্ট্র দাবি করলেও তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ। একাত্তরের পর ১৪০০ তরুণ, ছাত্র ও শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে শেখ মুজিবের খুনের দায়ে অভিযুক্ত মেজরের মতো অপরাধীদের ফেরত দিলেও, কেন শেখ হাসিনার মতো ব্যক্তিদের ভারতের কাছে সমর্পণ করা হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, এর পেছনে নিশ্চিতভাবে কোনো গভীর চক্রান্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একজন স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে সাইডলাইনে বসার মতো অসম্মানজনক আমন্ত্রণ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের পরেই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিট নষ্ট হওয়ার ঘোষণা ভারতের পক্ষ থেকে একটি কূটকৌশল। সাধারণ মানুষও এই কৌশলের বিষয়টি বুঝতে পারছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, গত ১৬ বছরের দুঃশাসন ও লুণ্ঠন শেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায়ে সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমানে পার্লামেন্ট ও বাইরে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করতে পারছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রতিফলন। অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে চর্চা ছিল, বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে এবং সরকারের মূল লক্ষ্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস সংকট সরকারের তৈরি নয়, বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের ফলে এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনার আমলের তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে আড়াই থেকে তিন গুণ বেড়েছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মধুর ক্যান্টিন বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, একাত্তরের অর্জন ও শহীদ মধুর আত্মত্যাগকে অপমান করার কোনো অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ সহ্য করবে না। যারা মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানানোর চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ নেওয়া। মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্র-জনতা এই অপতৎপরতা প্রতিহত করবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন, আনিসুজ্জামান খোকন, মেজর (অব.) মিজানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যিনি একাত্তরের পরে ১৪০০ তরুণ-কিশোর, ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকের রক্ত পান করেছেন, সেই রক্তপিপাসু শেখ হাসিনাকে আপনারা আশ্রয় দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ বাংলাদেশ সরকার আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাদের বারবার ফেরত চেয়েও পাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার সাথে যারা গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তারাও সেখানে পালিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি অতীতে শেখ মুজিবের খুনের দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক মেজরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা যদি সেই সাবেক মেজরকে ধরে শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করতে পারেন, তবে ১৪০০ মানুষকে হত্যাকারী শেখ হাসিনাকে কেন হস্তান্তর করছেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুখে বন্ধুত্বের সুমধুর কথা বললেও ভেতরে ভেতরে শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে আপনারা চক্রান্তের জাল বুনছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সুইচ তো ভারতের ঝাড়খণ্ডে, তারা যখন ইচ্ছা বন্ধ করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘বিরোধী মতের ওপর জুলুম নেই, দেশ গণতান্ত্রিক পথে’ বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে দেশে লুণ্ঠন, ব্যাংকের টাকা পাচার, গুম ও গুপ্তহত্যা চলেছে।