ইউরোপে বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা ও রাজনীতির প্রভাব
- আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
ইউরোপজুড়ে ইসলাম ও মুসলিম অভিবাসীদের নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন যে, ইসলাম পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত ৬ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে পপুলিস্ট ডানপন্থি দল ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ বা এএফডি ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। দলটি মূলত ইউরোপের ‘ইসলামায়ন’ রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিবাসন কমানোর ডাক দিয়েছে। একই ধরনের জনমত দেখা যাচ্ছে ব্রিটেনের ডোভারে, যেখানে শত শত মানুষ ‘বোট বন্ধ করো’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেছে। ফ্রান্সেও মেরিন লে পেনের হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব জনসমর্থন পাচ্ছে।
একসময় ৯/১১ পরবর্তী সন্ত্রাসবাদের আতঙ্ক প্রধান থাকলেও, এখন নতুন এক ভীতির জন্ম হয়েছে। অনেক মানুষ মনে করছেন, ইসলাম ভেতর থেকে ইউরোপকে দখল করে নিচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো কোনো সদস্য একে ‘সভ্যতার বিলুপ্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইউরোপে তথাকথিত ‘নো-গো জোন’ বা শরিয়াহ আইনের বিস্তার কিংবা ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ বা বৃহৎ জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের যে দাবি তোলা হয়, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ৫০ কোটির বেশি জনসংখ্যার ইউরোপে মুসলমানদের হার মাত্র ৬ শতাংশ। নতুন অভিবাসীদের জন্মহার বেশি হলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা স্থানীয়দের কাছাকাছি চলে আসে, তাই সভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা অমূলক।
শিক্ষাগত ও সামাজিক মানদণ্ডে মুসলিম অভিবাসীরা ক্রমশ মূলধারায় মিশে যাচ্ছে। ২০২১ সালের তথ্যমতে, ব্রিটেনের মানসম্মত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন, যেখানে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের হার ৩৮ শতাংশ। এছাড়া ব্রিটিশ রাজনীতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের মেয়রের মতো উচ্চপদে মুসলিমদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ব্রিটিশ মুসলিমদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের বিষয়েও কোনো বড় ধরনের ধর্মীয় বাধা নেই।
ইউরোপে বর্তমানে ইসলামিজম ও উগ্র ডানপন্থি ইসলামভীতি—উভয়ই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বামপন্থিরা ইসলামিজমের হুমকিকে প্রায়শই এড়িয়ে যায়, আবার মধ্যপন্থিরা বর্ণবাদের ভয়ে নীরব থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্বের কারণে এই বিভাজন আরও উসকে উঠছে। ব্রিটিশ ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের মতো উগ্র ডানপন্থিরা এই পরিস্থিতি ব্যবহার করে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। অথচ নির্বিচারে অভিবাসী বহিষ্কার বা পোশাক নিষেধাজ্ঞা মুসলমানদের আরও বিচ্ছিন্ন করে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ইউরোপের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো সহিংসতা প্রতিরোধ করা এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দ্য ইকোনমিস্ট ও হিন্দুস্তান ট্রিবিউনের তথ্যানুযায়ী, সরকার যদি অভিবাসন ও জনসংখ্যা পরিবর্তনের সঠিক তথ্য প্রকাশ না করে, তবে গুজবে সমাজ ভরে যায়। অতীতে ক্যাথলিক, ইহুদি ও ক্যারিবীয় অভিবাসীদের নিয়েও একই ধরনের ভয় কাজ করেছিল, যা সময়ের সঙ্গে কেটে গেছে। বর্তমান মুসলিম অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও একই ইতিবাচক রূপান্তর সম্ভব, যদি অযৌক্তিক আতঙ্ক ও চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়া না হয়। উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষার জন্য ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে চলমান অতিরঞ্জিত শঙ্কাগুলো তথ্যের ভিত্তিতেই প্রত্যাখ্যান করা জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউরোপে ইসলামকে ঘিরে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দলটি ‘ইসলামায়ন’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক করে এবং ব্যাপক হারে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফ্রান্সে মেরিন লে পেনের প্রকাশ্য স্থানে ইসলামি হিজাব নিষিদ্ধ করার আহ্বানও উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসলাম নিয়ে এই আতঙ্ক শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই; যুক্তরাষ্ট্রেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর যে ধরনের সন্ত্রাসবাদভিত্তিক ভয় প্রধান ছিল, এখন তার জায়গায় একটি নতুন ধারণা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—ইসলাম নাকি ইউরোপের ভেতর থেকেই ইউরোপকে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসলামপন্থিদের কোনো ভুল-ত্রুটি নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউরোপের প্রকৃত ঝুঁকি দুটি ধরন থেকে আসছে—একদিকে রাষ্ট্রকে ইসলামি নীতির অধীন করার রাজনৈতিক মতাদর্শ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর উগ্র ডানপন্থি ইসলামভীতি।ইউরোপের বামপন্থিরা ইসলামিজমের বাস্তব কিন্তু সীমিত হুমকিকে অস্বীকার করে সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে।























