ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যু: শেখ হাসিনাসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2
জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বিএনপি কর্মী জাহিদ হোসেন রাব্বী নিহতের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১২৫ জনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহানের আদালতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মামলাটি করেন নিহত রাব্বীর মামা ও খিলগাঁও থানার ঝিলপাড় ইউনিটের যুবদল সদস্য নাঈম কলিমুল্লাহ সরকার। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার আসামির তালিকায় থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর নাম রয়েছে। এছাড়া সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননকেও আসামি করা হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মোহাম্মদ এ আরাফাত ও জুনাইদ আহমেদ পলক। একইসঙ্গে সাবেক তিন সিটি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আতিকুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলমের নামও মামলায় যুক্ত রয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে মাহবুব-উল-আলম হানিফ, শেখ হেলাল, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ, সাইফুজ্জামান শেখর, নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু এবং ডা. হাবিব এ মিল্লাত রয়েছেন।
প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক মুখ্যসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশীদ বিশ্বাস, ধনঞ্জয় কুমার দাস, আবুল ফজল মীর বাদল ও শায়লা ফারজানা শিউলির নাম মামলায় উঠে এসেছে। এছাড়া আইজিপি পদমর্যাদার সাবেক কর্মকর্তা এ কে এম শহীদুল হক, বেনজীর আহমেদ, জাবেদ পাটোয়ারী ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে আসামি করা হয়েছে।
এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং আব্দুল কাহার আকন্দের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজিবুল্লাহ হিরু, মোশাররফ হোসেন কাজল ও খুরশীদ আলম খানের নাম আসামির তালিকায় রয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পেশায় ফটোগ্রাফার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার জাহিদ হোসেন রাব্বী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের শেষ দিনে তিনি খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ওই দিন দুপুর ২টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাকে গুরুতর অবস্থায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পিবিআই এখন রাব্বীর মৃত্যুসংক্রান্ত ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করবে। ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল, তিনি কীভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন এবং মামলায় যাদের নাম রয়েছে তাদের সঙ্গে এই ঘটনার সংশ্লিষ্টতা কতটুকু—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে সংস্থাটি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবে।





















