ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন পে স্কেলে বেতন পাবেন না যারা, প্রজ্ঞাপন জারি দীর্ঘ এক যুগ পর ঢাকায় ফিরছে বাটেক্সপো ২০২৬ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে ঝরল চার প্রাণ আইআইটি মুম্বাইয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পরিবারের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মানিকগঞ্জে প্রবাসীসহ তিনজনের মৃত্যু: তদন্তে পুলিশ নিখোঁজ কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে নেমেছে পুলিশ মিছিলের প্রস্তুতির সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা ১৭ বছরে প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্যদের পাস করানো হয়েছে: রিজভী জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো তিতাস-২৮ নম্বর কূপের গ্যাস জ্বালানি সংকটে ইউরোপ: বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহের উদ্বেগ

তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা আটকে দিল

  • আপডেট সময় : ১০:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পরিকল্পনাকে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত। বোস্টনের ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের প্যানেল শুক্রবার তাদের দেওয়া রায়ে ফেব্রুয়ারি মাসের একটি সিদ্ধান্তের যথার্থতা বহাল রেখেছে। ওই রায়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) বিতর্কিত এই নীতিকে বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কোনো অভিবাসীকে অন্য কোনো দেশে পাঠানোর আগে সেখানে তাদের জীবনের নিরাপত্তা বা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে। আইনি যথাযথ প্রক্রিয়া এড়িয়ে এমন দেশে অভিবাসীদের পাঠানো যাবে না, যেখানে তাদের কোনো পূর্ব সংযোগ বা সম্পর্ক নেই। তবে আদালত আগের রায়ের একটি অংশ বাতিল করেছে, যেখানে অভিবাসীদের তাদের সম্পর্ক আছে এমন দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতা ছিল।

মানবাধিকার সংস্থা রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের ‘থার্ড কান্ট্রি ডিপোর্টেশন ওয়াচ’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ২৯টি তৃতীয় দেশের সাথে ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ফেরত পাঠানোর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট কিউবা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের আট নাগরিককে দক্ষিণ সুদানে পাঠানোর পথ উন্মুক্ত করেছিল, যদিও দেশটিতে সংঘাত ও অপহরণের উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতা রয়েছে।

চলতি মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ওপর একের পর এক আইনি চ্যালেঞ্জ আসছে। এই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় বিধিনিষেধ আরোপের সরকারি উদ্যোগটিও একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশে আটকে গেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করলে দেখা যায়, অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসন কঠোর আইনি বাধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা আটকে দিল

আপডেট সময় : ১০:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পরিকল্পনাকে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত। বোস্টনের ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের প্যানেল শুক্রবার তাদের দেওয়া রায়ে ফেব্রুয়ারি মাসের একটি সিদ্ধান্তের যথার্থতা বহাল রেখেছে। ওই রায়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) বিতর্কিত এই নীতিকে বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কোনো অভিবাসীকে অন্য কোনো দেশে পাঠানোর আগে সেখানে তাদের জীবনের নিরাপত্তা বা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে। আইনি যথাযথ প্রক্রিয়া এড়িয়ে এমন দেশে অভিবাসীদের পাঠানো যাবে না, যেখানে তাদের কোনো পূর্ব সংযোগ বা সম্পর্ক নেই। তবে আদালত আগের রায়ের একটি অংশ বাতিল করেছে, যেখানে অভিবাসীদের তাদের সম্পর্ক আছে এমন দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতা ছিল।

মানবাধিকার সংস্থা রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের ‘থার্ড কান্ট্রি ডিপোর্টেশন ওয়াচ’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ২৯টি তৃতীয় দেশের সাথে ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ফেরত পাঠানোর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট কিউবা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের আট নাগরিককে দক্ষিণ সুদানে পাঠানোর পথ উন্মুক্ত করেছিল, যদিও দেশটিতে সংঘাত ও অপহরণের উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতা রয়েছে।

চলতি মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ওপর একের পর এক আইনি চ্যালেঞ্জ আসছে। এই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় বিধিনিষেধ আরোপের সরকারি উদ্যোগটিও একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশে আটকে গেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করলে দেখা যায়, অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসন কঠোর আইনি বাধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।