ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় অস্ত্র উদ্ধার: পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার দুই

  • আপডেট সময় : ০৫:২২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 23
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্থানীয় থানা পুলিশ যৌথভাবে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে। অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১১ রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রিফাত তালুকদার (২১) এবং আব্দুল আওয়াল (২৫) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেএমপির ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানান ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানা এলাকায় বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘চিংড়ী পলাশ’-এর বাসায় যশোর থেকে আগত কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অভিযান চালায়।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার গোবরচাকা শাহিনুর জামে মসজিদ রোড এলাকার খালাসীবাড়ি মোড়ের একটি দোতলা বাড়ির নিচতলায় অভিযান চালিয়ে রিফাত তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিফাত যশোরের কোতোয়ালি থানার শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস তালুকদারের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে রিফাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, বাড়িটি বর্তমানে কারাবন্দী সন্ত্রাসী পলাশ তালুকদারের, যিনি অতীতে ‘বি কোম্পানি’ নামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য ছিলেন।

এদিকে, লবণচরা থানার হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় আরও একটি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়। লবণচরা থানার একটি হত্যা মামলার আসামি আব্দুল আউয়ালকে বুধবার গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি সামনে আসে। আউয়াল খুলনা সদর থানার পশ্চিম টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালামের ছেলে। এর আগে অন্য এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আউয়ালের নাম উল্লেখ করেছিলেন।

লবণচরা থানার ওসির দায়িত্বে থাকা মো. মোশাররফ হোসেন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে আশিবিঘার আল আকসা মসজিদ গলির একটি পরিত্যক্ত দোচালা টিনের ঘরে অভিযান চালায়। সেখানে কাঠের গুঁড়ির বস্তার নিচে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো ভারত থেকে সাতক্ষীরা ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যশোর হয়ে খুলনায় প্রবেশ করেছে। ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং অস্ত্রগুলো কী উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, তা নিয়ে বর্তমানে জোর তদন্ত চলছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযানে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার গোবরচাকা শাহিনুর জামে মসজিদ রোডের খালাসীবাড়ি মোড়ের হোল্ডিং নম্বর-২২-এর বাসা থেকে রিফাত তালুকদার (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি এসব অস্ত্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং এগুলো কোথায় ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনায় অস্ত্র উদ্ধার: পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার দুই

আপডেট সময় : ০৫:২২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্থানীয় থানা পুলিশ যৌথভাবে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে। অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১১ রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রিফাত তালুকদার (২১) এবং আব্দুল আওয়াল (২৫) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেএমপির ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানান ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানা এলাকায় বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘চিংড়ী পলাশ’-এর বাসায় যশোর থেকে আগত কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অভিযান চালায়।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার গোবরচাকা শাহিনুর জামে মসজিদ রোড এলাকার খালাসীবাড়ি মোড়ের একটি দোতলা বাড়ির নিচতলায় অভিযান চালিয়ে রিফাত তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিফাত যশোরের কোতোয়ালি থানার শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস তালুকদারের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে রিফাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, বাড়িটি বর্তমানে কারাবন্দী সন্ত্রাসী পলাশ তালুকদারের, যিনি অতীতে ‘বি কোম্পানি’ নামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য ছিলেন।

এদিকে, লবণচরা থানার হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় আরও একটি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়। লবণচরা থানার একটি হত্যা মামলার আসামি আব্দুল আউয়ালকে বুধবার গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি সামনে আসে। আউয়াল খুলনা সদর থানার পশ্চিম টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালামের ছেলে। এর আগে অন্য এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আউয়ালের নাম উল্লেখ করেছিলেন।

লবণচরা থানার ওসির দায়িত্বে থাকা মো. মোশাররফ হোসেন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে আশিবিঘার আল আকসা মসজিদ গলির একটি পরিত্যক্ত দোচালা টিনের ঘরে অভিযান চালায়। সেখানে কাঠের গুঁড়ির বস্তার নিচে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো ভারত থেকে সাতক্ষীরা ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যশোর হয়ে খুলনায় প্রবেশ করেছে। ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং অস্ত্রগুলো কী উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, তা নিয়ে বর্তমানে জোর তদন্ত চলছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযানে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার গোবরচাকা শাহিনুর জামে মসজিদ রোডের খালাসীবাড়ি মোড়ের হোল্ডিং নম্বর-২২-এর বাসা থেকে রিফাত তালুকদার (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি এসব অস্ত্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং এগুলো কোথায় ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।