ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে হত্যার ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার সম্পন্ন হয়নি। ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বনপাড়া পৌর বিএনপির মিছিলে হামলার ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর আগমনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সেই মিছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা হামলা চালায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা বাবুকে বেধড়ক পেটানোর পাশাপাশি হাত ও পায়ের রগ কেটে ফেলে। সেদিন কয়েকজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করার সময় হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং চারজনের ক্যামেরা ও মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। তবে একজন সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে হামলার প্রকৃত চিত্র উঠে আসে। এসব ঘটনার সময় খুব কাছে থেকে পাঁচছয় জন সাংবাদিক ও ক্যামেরাপার্সন ভিডিওচিত্র ধারণ করেছিলেন। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী সে সময় ওই সাংবাদিকদের মারপিট করে চারজনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়েছিল এবং টিভি ক্যামেরার ক্যাসেট ও ডিজিটাল ক্যামেরার মেমোরি কার্ড খুলে রেখে দিয়েছিল।

ঘটনার পরের দিনই বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বড়াইগ্রাম থানায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র কে এম জাকির হোসেন, তার ভাই কে এম জামিল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কে এম জিল্লুর রহমান জিন্নাহ, খোকন মোল্লা, রেজাউল করিম বিকোনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০০৪ সালে পৌর নির্বাচনে জাকির হোসেনের পরাজয় এবং পরবর্তীতে বাবু উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় রাজনৈতিক রেষারেষি তৈরি হয়। প্রধান আসামি নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সেই সময় জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বনপাড়া পৌরসভার পরবর্তী সময়ের মেয়র কে এম জাকির হোসেন, তার ভাই যথাক্রমে ২ ও ৩ নম্বর আসামি কে এম জামিল হোসেন ও সেই সময়কার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কে এম জিল্লুর। 2, 3, 4. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলু, মাসুদ সোনার, সৈকত, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বিকোন, তার ভাই রাসেল ওরফে রাপ্পু ওরফে রাক্কু, সেলিম, হাসেম, বাদশা, হাসেম-২, গৌতম ঘোষ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, রিপন সোনার, মালেক, মাহবুব, জনি। সেই সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বাবু উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সানাউল্লাহ নূর বাবু নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছিলেন। তিনি পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মূলত তার এই উত্থান এবং জনপ্রিয়তাকে প্রতিপক্ষরা সহজভাবে নিতে পারেনি। এর আগে ৫ মে বেগম খালেদা জিয়ার সফরকালে সংবর্ধনা দেওয়ার পরদিন থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা চেয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তার ইচ্ছা ছিল সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করা। ২০১০ সালের ৫ মে রাজশাহীর বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে বনপাড়ায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনা দেয়ার পরদিনই জাকিরসহ তার সহযোগীরা বাবুকে শাসায়।

অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর বাবুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী তাকে মৃত নিশ্চিত করেন। হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচিতেও বাধা দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত পর্যায়ে সিআইডি বিগত সরকারের শেষের দিকে অনেক প্রভাবশালী অভিযুক্তকে বাদ দিয়ে চার্জশিট প্রদান করে। বাদীপক্ষ এতে নারাজি দিলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন মহুয়া নূর কচি। বর্তমানে মামলাটি স্থগিত রয়েছে, তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বিচার পাওয়ার আশায় নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আইনজীবীর বক্তব্য না পাওয়া গেলেও দ্রুত বিচার শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে পরিবারের।

নিউজটি শেয়ার করুন

বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

আপডেট সময় : ০৬:১৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে হত্যার ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার সম্পন্ন হয়নি। ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বনপাড়া পৌর বিএনপির মিছিলে হামলার ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর আগমনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সেই মিছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা হামলা চালায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা বাবুকে বেধড়ক পেটানোর পাশাপাশি হাত ও পায়ের রগ কেটে ফেলে। সেদিন কয়েকজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করার সময় হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং চারজনের ক্যামেরা ও মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। তবে একজন সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে হামলার প্রকৃত চিত্র উঠে আসে। এসব ঘটনার সময় খুব কাছে থেকে পাঁচছয় জন সাংবাদিক ও ক্যামেরাপার্সন ভিডিওচিত্র ধারণ করেছিলেন। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী সে সময় ওই সাংবাদিকদের মারপিট করে চারজনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়েছিল এবং টিভি ক্যামেরার ক্যাসেট ও ডিজিটাল ক্যামেরার মেমোরি কার্ড খুলে রেখে দিয়েছিল।

ঘটনার পরের দিনই বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বড়াইগ্রাম থানায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র কে এম জাকির হোসেন, তার ভাই কে এম জামিল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কে এম জিল্লুর রহমান জিন্নাহ, খোকন মোল্লা, রেজাউল করিম বিকোনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০০৪ সালে পৌর নির্বাচনে জাকির হোসেনের পরাজয় এবং পরবর্তীতে বাবু উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় রাজনৈতিক রেষারেষি তৈরি হয়। প্রধান আসামি নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সেই সময় জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বনপাড়া পৌরসভার পরবর্তী সময়ের মেয়র কে এম জাকির হোসেন, তার ভাই যথাক্রমে ২ ও ৩ নম্বর আসামি কে এম জামিল হোসেন ও সেই সময়কার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কে এম জিল্লুর। 2, 3, 4. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলু, মাসুদ সোনার, সৈকত, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বিকোন, তার ভাই রাসেল ওরফে রাপ্পু ওরফে রাক্কু, সেলিম, হাসেম, বাদশা, হাসেম-২, গৌতম ঘোষ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, রিপন সোনার, মালেক, মাহবুব, জনি। সেই সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বাবু উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সানাউল্লাহ নূর বাবু নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছিলেন। তিনি পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মূলত তার এই উত্থান এবং জনপ্রিয়তাকে প্রতিপক্ষরা সহজভাবে নিতে পারেনি। এর আগে ৫ মে বেগম খালেদা জিয়ার সফরকালে সংবর্ধনা দেওয়ার পরদিন থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা চেয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তার ইচ্ছা ছিল সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করা। ২০১০ সালের ৫ মে রাজশাহীর বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে বনপাড়ায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনা দেয়ার পরদিনই জাকিরসহ তার সহযোগীরা বাবুকে শাসায়।

অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর বাবুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী তাকে মৃত নিশ্চিত করেন। হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচিতেও বাধা দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত পর্যায়ে সিআইডি বিগত সরকারের শেষের দিকে অনেক প্রভাবশালী অভিযুক্তকে বাদ দিয়ে চার্জশিট প্রদান করে। বাদীপক্ষ এতে নারাজি দিলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন মহুয়া নূর কচি। বর্তমানে মামলাটি স্থগিত রয়েছে, তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বিচার পাওয়ার আশায় নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে আইনজীবীর বক্তব্য না পাওয়া গেলেও দ্রুত বিচার শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে পরিবারের।