১৬ কোটি টাকার সোনা পাচার: বিমানের দুই কর্মীর স্বীকারোক্তি
- আপডেট সময় : ০৮:১০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জুতার ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকানো ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৮০টি সোনার বার উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আবুল কাইয়ুম তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানালে ঢাকা মহানগর হাকিম হাসান শাহাদাত তা গ্রহণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক।
এর আগে গত রোববার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে এই দুই কর্মীকে আটক করেন। পরদিন আদালত তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। উদ্ধার করা সোনার প্রতিটি বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম, যা সব মিলিয়ে প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি ওজনের। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটটি রানওয়ের কাছে অবস্থান করার সময় বিমানকর্মীদের জুতার ভেতর থেকে এই সোনার চালানটি জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার দিনই বিমানবন্দরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রুহানি ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মূলত উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা এড়িয়ে কীভাবে বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা নিয়ে জোর তদন্ত চলছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আদালতে দেওয়া এই দুই কর্মীর জবানবন্দি থেকে চোরাচালান চক্রের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে নতুন সূত্র পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার উৎস, গন্তব্য এবং এর সাথে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কীভাবে নেওয়া হচ্ছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
























