খুলনায় আ.লীগের মিছিল থেকে বিএনপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে
- আপডেট সময় : ০৬:১২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 17
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া মওলা বাড়ির সামনে ইসলামিয়া রোডে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল থেকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল থেকে এ সময় তার বাড়ির সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং বসতবাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনার সময় নিজ বাসায় বিশ্রামে থাকা মঞ্জুরুল আলম জানান, বাইরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনে বারান্দায় গেলে তাকে সরে যেতে হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাসার ভেতরে ঢোকার মুহূর্তে তার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। খুলনায় আওয়ামী লীগের একটি মিছিল থেকে বিএনপির এক নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা সদর থানাধীন টুটপাড়া মওলা বাড়ির সামনে ইসলামিয়া রোড এবং দুপুরে খালিশপুর এলাকায় পৃথক এ ঘটনা দুটি ঘটে। ভুক্তভোগী মঞ্জুরুল আলম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাসায় শুয়ে ছিলেন। বাইরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনে বারান্দায় গিয়ে দেখতে চাইলে মিছিল থেকে এক ব্যক্তি তাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, খুলনার খালিশপুরে জুমার নামাজ চলাকালে আওয়ামী লীগের ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
একই দিনে দুপুরে নগরীর খালিশপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আরেকটি ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে খুলনা-যশোর মহাসড়কের আনসার উদ্দিন সড়কের মুখে এই মিছিলটি হয়। মিছিলটি খালিশপুর থানা কৃষক লীগের সভাপতি রতন শেখ কন্ট্রাক্টরের নেতৃত্বে কেএমপি পুলিশ লাইনস স্কুলের সামনে থেকে শুরু হয়েছিল। ওই মিছিলে রাজু, এনামুল, জিকু, বাশার, মুন্না, শোভন, রায়হান সরদার, আকাশ সরদার ও আল আমিন মল্লিকসহ আরও কয়েকজন অংশ নিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, এনামুলের বাড়ি কাজীপাড়া-মুজগুনী এলাকায় এবং বাশার ও শোভনের বাড়ি পেটকা বাজার এলাকা সংলগ্ন। মিছিলের সময় পাশে অবস্থিত একটি মসজিদে জুমার নামাজের খুতবা চলছিল এবং খোকনের চায়ের দোকানের সামনে থাকা মোটরসাইকেল আরোহীরাও সেখানে উপস্থিত হন।
মসজিদ থেকে বেরিয়ে স্থানীয় মুসল্লিরা এবং সাধারণ মানুষ মিছিলকারীদের ধাওয়া করলে তারা কোনো ঘোষণা ছাড়াই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর বিভাগ) সুদর্শন কুমার রায় ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই মিছিলটি সফল হতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, মিছিলকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা হবে। শহরের দুটি ভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। স্থানীয়দের প্রতিহত ও পুলিশের ভূমিকার মুখে ওই মিছিল পণ্ড হয়ে যায়।























