ইরানে অস্ত্র ঘাটতির কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০১:০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত ভাণ্ডারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলমান এই যুদ্ধের কারণে দেশটির সামরিক বাহিনীতে কিছু সমরাস্ত্রের জোগান কিছুটা কমেছে। তবে আমাদের কাছে মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি মানের অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র এখনও প্রচুর রয়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান থেকে আসা প্রস্তাব তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এদিকে, এই অজনপ্রিয় যুদ্ধের কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
টাইমকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অস্ত্র সংকটের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার না করে আংশিক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, গোলাবারুদের নির্দিষ্ট কিছু মজুত অন্যান্য অস্ত্রের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে এই ঘাটতি কাটাতে তার প্রশাসন ইতোমধ্যেই তৎপর হয়েছে বলে জানান তিনি। যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট অস্ত্রের নাম বা সংখ্যা উল্লেখ করেননি, তবে জানান যে সংকট নিরসনে মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশজুড়ে নতুন কারখানা স্থাপন করছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক রিপোর্টেও অস্ত্র ঘাটতি ও সরবরাহের ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছিল। তখন এটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন যে, তিনি ইতোমধ্যে এই যুদ্ধে জয়লাভ করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তার কণ্ঠে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হতে পারে। যুদ্ধের কৌশল ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্পের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এনওআরসি সেন্টারের একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির ওপর মাত্র ২৬ শতাংশ মার্কিনি আস্থা রেখেছেন, যা তার শাসনামলে সর্বনিম্ন একটি হার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার ভূমিতে হামলা পরিচালনাকারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘ইন্টারসেপ্টর’ ব্যবহার করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের’ জুলাই মাসের এক মূল্যায়নে বলা হয়, প্যাট্রিয়ট এবং থাডের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা।






















