যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় আর আস্থা নেই ইরানের: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
- আপডেট সময় : ০৫:২১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের দীর্ঘদিনের আস্থা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, আলোচনার পথ ধরে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান ওয়াশিংটনের ওপর বিশ্বাস হারিয়েছে। তবে বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং তেহরানের বিভিন্ন বার্তা ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ইয়েমেন পরিস্থিতি ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এর বিপরীতে ইরান তার জনগণের ওপর বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।
পেজেশকিয়ান জানান, দুই দেশের আলোচনার ভিত্তি হিসেবে আগে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। এখন ওই সমঝোতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রই মূলত চলাচলের পথ রুদ্ধ করেছে, তাই প্রণালি বন্ধ করার বিষয়টি তেহরানের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হলে বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইয়েমেনের চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে ইরানের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, ইয়েমেনের হুথি এবং সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া প্রয়োজন এবং ইরান এক্ষেত্রে সহায়তার ভূমিকা নিতে পারে। অন্যায় বা নির্যাতনের শিকার মানুষের প্রতি ইরান সংহতি প্রকাশ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না। তিনি ‘এক ভাইয়ের সঙ্গে আরেক ভাইয়ের লড়াই উচিত নয়’—এমন নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে যে নিষেধাজ্ঞা ও হামলার মুখোমুখি ইরান হচ্ছে, তা দেশটিকে দুর্বল করতে পারবে না বলে জোর দিয়ে বলেন প্রেসিডেন্ট। তার মতে, যারা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরানকে কাবু করতে চেয়েছে, তারা বড় ধরণের হিসাবের ভুল করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানকে নিজেদের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের হওয়ার সুযোগ দিতে চায় না এবং তারা সচেতনভাবে আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইরানের সরকার পতনের যে ধারণা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল করেছিল, তাকে ভুল আখ্যা দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি সব আগ্রাসনের মুখেও ইরানের জনগণ অটল ও অবিচল। ভবিষ্যতে এই দৃঢ়তা অব্যাহত থাকবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বাইরের কোনো ‘পুলিশম্যান’ বা শক্তির প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। পেজেশকিয়ানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতাই একমাত্র কার্যকর পথ।


















