ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শিশুর সঠিক বিকাশে দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর নির্ভরশীল। শিশুদের নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা ও গুণাবলী বিকশিত করার সুযোগ করে দিতে পারলেই দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি মূলত শিশুদের। তাই বড়দের দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর দিকে তিনিও শিশু হিসেবে এখানে এসেছিলেন। তখন এই একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তার ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বোর্ডে নিজের ও ভাইয়ের সেই লেখা দেখে পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করেন তিনি। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।

শিশুদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার সুযোগ দিতে হবে। তিনি শিশুদের বলেন, আজকে আমি তোমাদের পড়ালেখার কথা বলব না, বরং খেলাধুলায় মনোযোগ দিতে বলব। প্রত্যেক শিশুর ভেতরে বিশেষ গুণ থাকে—কেউ ছবি আঁকায় পটু, কেউ কবিতা বা গানে দক্ষ। কেউ আবার বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে। এসব প্রতিভা বিকাশে যথাযথ সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার আগ্রহের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যারা বাদ্যযন্ত্র, গান কিংবা নাচের প্রতি আগ্রহী, তারা যেন নিষ্ঠার সাথে তা চর্চা করে। একই সাথে যারা কোরআন তেলাওয়াত বা কেরাত পছন্দ করে, তাদের সেই বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন তিনি। শিশুদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। প্রথমবারের মতো সারাদেশে ২২ লাখ শিশু—যাদের মধ্যে ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে—ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ থেকে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রম নতুন করে চালু করা হয়েছে। সিলেট থেকে শুরু করে আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সন্তানদের আলাদাভাবে এসব সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কুল পর্যায় থেকেই শিল্প, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরির কাজ চলছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও শহরের শিশুদের মতো সমান সুযোগ পায়। সরকারপ্রধান আরও বলেন, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিশুদের প্রস্তুত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায় থেকে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিজসহ কয়েকটি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা পছন্দের একটি বেছে নিতে পারবে, যা ভবিষ্যতে তাদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে। প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে।

প্রতিভা ও শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, শিশুদের অবশ্যই মানবিক হতে হবে। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাছপালার যত্ন নেওয়া এবং পশুপাখির প্রতি যত্নশীল হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এই মানবিক আচরণই একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুর সঠিক বিকাশে দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৬:০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর নির্ভরশীল। শিশুদের নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা ও গুণাবলী বিকশিত করার সুযোগ করে দিতে পারলেই দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি মূলত শিশুদের। তাই বড়দের দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর দিকে তিনিও শিশু হিসেবে এখানে এসেছিলেন। তখন এই একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তার ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বোর্ডে নিজের ও ভাইয়ের সেই লেখা দেখে পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করেন তিনি। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।

শিশুদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার সুযোগ দিতে হবে। তিনি শিশুদের বলেন, আজকে আমি তোমাদের পড়ালেখার কথা বলব না, বরং খেলাধুলায় মনোযোগ দিতে বলব। প্রত্যেক শিশুর ভেতরে বিশেষ গুণ থাকে—কেউ ছবি আঁকায় পটু, কেউ কবিতা বা গানে দক্ষ। কেউ আবার বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে। এসব প্রতিভা বিকাশে যথাযথ সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার আগ্রহের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যারা বাদ্যযন্ত্র, গান কিংবা নাচের প্রতি আগ্রহী, তারা যেন নিষ্ঠার সাথে তা চর্চা করে। একই সাথে যারা কোরআন তেলাওয়াত বা কেরাত পছন্দ করে, তাদের সেই বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন তিনি। শিশুদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। প্রথমবারের মতো সারাদেশে ২২ লাখ শিশু—যাদের মধ্যে ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে—ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ থেকে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রম নতুন করে চালু করা হয়েছে। সিলেট থেকে শুরু করে আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সন্তানদের আলাদাভাবে এসব সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কুল পর্যায় থেকেই শিল্প, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরির কাজ চলছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও শহরের শিশুদের মতো সমান সুযোগ পায়। সরকারপ্রধান আরও বলেন, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিশুদের প্রস্তুত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায় থেকে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিজসহ কয়েকটি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা পছন্দের একটি বেছে নিতে পারবে, যা ভবিষ্যতে তাদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে। প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে।

প্রতিভা ও শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, শিশুদের অবশ্যই মানবিক হতে হবে। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গাছপালার যত্ন নেওয়া এবং পশুপাখির প্রতি যত্নশীল হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এই মানবিক আচরণই একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।