শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ প্রতিষ্ঠানের দৌড়
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চারটি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা। টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জাপানি কনসোর্টিয়াম এই চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য জমা দিয়েছে। এই ছাড়পত্র পাওয়ার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে অপারেটর নির্বাচন করা হবে এবং পরবর্তীতে তাদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে। মেনজিস বাংলাদেশে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ব্যবহার ও কর্মী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা দিয়েছে।
বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানিয়েছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ধরনের নিরাপত্তা বা নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত উদ্বেগ রয়েছে কি না, তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হবে। এর ফলে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তবে প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় নির্বাচিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাথে সমন্বয় করে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করবে, যদিও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিমানের হাতেই বহাল থাকবে। চার প্রতিষ্ঠানেরই আন্তর্জাতিক কার্যক্রম ও পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মধ্যে যাত্রীদের চেক-ইন, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজের সেবা ও উড্ডয়ন প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অন্তর্ভুক্ত। মেনজিস এভিয়েশন তাদের পরিকল্পনায় জানিয়েছে, তারা নির্বাচিত হলে প্রথম বছরেই ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ এবং এক হাজারেরও বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি করবে। তাদের তথ্যমতে, এই কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৯ শতাংশই হবে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য। এছাড়াও ব্যাগেজ সেবার মানোন্নয়নে প্রথম ব্যাগেজ ১০ থেকে ১৫ মিনিট এবং শেষ ব্যাগেজ ৪০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কর্মীর প্রায় ৯৯ শতাংশ বাংলাদেশি হবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৃতীয় টার্মিনালের আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের জন্য অভিজ্ঞ অপারেটরের কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সেবার মান নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জাপানি কনসোর্টিয়ামটি মূলত জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোই এবং নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত। টার্মিনাল পরিচালনার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এই অপারেটর নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।























