ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি চরম দেশবিরোধী: রুহুল কবির রিজভী

  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে চরম দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও ‘কমল কুঁড়ি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রেমিট্যান্স দেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার মূল ভিত্তি এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে আপনারা রেমিট্যান্স বন্ধ করবেন। দেশের অসংখ্য পরিবার এই অর্থের অপেক্ষায় থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরে ঘটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের যেকোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সমালোচনা করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে দায়িত্বপালনরত কাউকে আক্রমণ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির করা ভুলকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা বা রেমিট্যান্স শাটডাউনের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা এমন কথা বলছেন, তারা দেশের পক্ষে নাকি বিরোধী দলে? তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এবং অনেকেই কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন, তাই এমন দাবি ভিত্তিহীন। কোনো ব্যক্তির অপরাধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একজন ব্যক্তির অপরাধের মাত্রা বিবেচনা না করে চট করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। এখন বলা হচ্ছে, ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ করে দিন।

প্রবাসীরা তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যে অর্থ পাঠান, তা বন্ধের হুমকি দেওয়া মূলত সাধারণ পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করার শামিল বলে তিনি মনে করেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ছাত্ররাজনীতি শুধু মিছিল-স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও ভূগোলের পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এ সময় তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে মেধা ও গণতন্ত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার আহ্বান জানান। ছাত্ররাজনীতির লক্ষ্য শুধু মিছিল ও স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, শিক্ষার্থীদের সমাজ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় তরুণদের সক্ষমতা নিয়ে অনেকের মনে হতাশা থাকলেও, সেই আন্দোলনে তরুণেরা অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের সাহসিকতার কারণেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন হয়েছে। জিয়াউর রহমানের জীবনের ওপর আয়োজিত এই রচনা প্রতিযোগিতায় প্রায় সাত হাজার ৬৬২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস ও দেশমাতৃকার বিষয়ে গভীর আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন নিয়ে আয়োজিত এই রচনা প্রতিযোগিতায় ৭ হাজার ৬৬২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘কমল কুঁড়ি’র আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন, স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি চরম দেশবিরোধী: রুহুল কবির রিজভী

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে চরম দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও ‘কমল কুঁড়ি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রেমিট্যান্স দেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার মূল ভিত্তি এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে আপনারা রেমিট্যান্স বন্ধ করবেন। দেশের অসংখ্য পরিবার এই অর্থের অপেক্ষায় থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরে ঘটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের যেকোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সমালোচনা করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে দায়িত্বপালনরত কাউকে আক্রমণ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির করা ভুলকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা বা রেমিট্যান্স শাটডাউনের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা এমন কথা বলছেন, তারা দেশের পক্ষে নাকি বিরোধী দলে? তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এবং অনেকেই কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন, তাই এমন দাবি ভিত্তিহীন। কোনো ব্যক্তির অপরাধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একজন ব্যক্তির অপরাধের মাত্রা বিবেচনা না করে চট করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। এখন বলা হচ্ছে, ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ করে দিন।

প্রবাসীরা তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যে অর্থ পাঠান, তা বন্ধের হুমকি দেওয়া মূলত সাধারণ পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করার শামিল বলে তিনি মনে করেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ছাত্ররাজনীতি শুধু মিছিল-স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও ভূগোলের পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এ সময় তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে মেধা ও গণতন্ত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার আহ্বান জানান। ছাত্ররাজনীতির লক্ষ্য শুধু মিছিল ও স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, শিক্ষার্থীদের সমাজ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় তরুণদের সক্ষমতা নিয়ে অনেকের মনে হতাশা থাকলেও, সেই আন্দোলনে তরুণেরা অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের সাহসিকতার কারণেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন হয়েছে। জিয়াউর রহমানের জীবনের ওপর আয়োজিত এই রচনা প্রতিযোগিতায় প্রায় সাত হাজার ৬৬২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস ও দেশমাতৃকার বিষয়ে গভীর আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন নিয়ে আয়োজিত এই রচনা প্রতিযোগিতায় ৭ হাজার ৬৬২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘কমল কুঁড়ি’র আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন, স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।