ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের মুখেও এমিরেটস গ্রুপের ১.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা নেতানিয়াহুর চেয়ে জনপ্রিয় জোহরান মামদানি, বলছে জিবিএওর জরিপ ইরানের ওপর নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

  • আপডেট সময় : ০৩:৪০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 19
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দক্ষিণ আফ্রিকার খ্যাতিমান মানবাধিকার আইনজীবী ও বিচারপতি নাভানেথাম নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ১২৫তম শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করে। বৈশ্বিক আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

নোবেল কমিটির বিবৃতিতে জানানো হয়, অসাধারণ সাহসিকতা ও সততার সঙ্গে পিল্লাই এক সুসংহত বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিতে তার অবদান অনন্য। বর্ণবাদী শাসনামলে ডারবানের এক তামিল পরিবারে জন্ম নেওয়া পিল্লাই তরুণ বয়সে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যান্য অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।

তার কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিআর) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান গণহত্যা মামলার অন্যতম বিচারক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালে বিচারক থাকাকালীন ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার উপাদান ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে তার নেওয়া অবস্থান ঐতিহাসিক নজির হয়ে আছে। এছাড়া ঘৃণাত্মক প্রোপাগান্ডাকে গণহত্যার উসকানি হিসেবে বিচার করার ক্ষেত্রেও তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যখন আইনের শাসন চাপের মুখে, তখন পিল্লাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বদের আপসহীন অবস্থান বিশ্বের জন্য বড় অনুপ্রেরণা বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি। আলফ্রেড নোবেলের আদর্শ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও বিচারিক প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

আপডেট সময় : ০৩:৪০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার খ্যাতিমান মানবাধিকার আইনজীবী ও বিচারপতি নাভানেথাম নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ১২৫তম শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করে। বৈশ্বিক আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

নোবেল কমিটির বিবৃতিতে জানানো হয়, অসাধারণ সাহসিকতা ও সততার সঙ্গে পিল্লাই এক সুসংহত বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিতে তার অবদান অনন্য। বর্ণবাদী শাসনামলে ডারবানের এক তামিল পরিবারে জন্ম নেওয়া পিল্লাই তরুণ বয়সে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যান্য অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।

তার কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিআর) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান গণহত্যা মামলার অন্যতম বিচারক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালে বিচারক থাকাকালীন ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার উপাদান ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে তার নেওয়া অবস্থান ঐতিহাসিক নজির হয়ে আছে। এছাড়া ঘৃণাত্মক প্রোপাগান্ডাকে গণহত্যার উসকানি হিসেবে বিচার করার ক্ষেত্রেও তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যখন আইনের শাসন চাপের মুখে, তখন পিল্লাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বদের আপসহীন অবস্থান বিশ্বের জন্য বড় অনুপ্রেরণা বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি। আলফ্রেড নোবেলের আদর্শ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও বিচারিক প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।