সাবিলা নূরের সাত বছরের সংসার ভাঙনের গুঞ্জন
- আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
শোবিজে তারকাদম্পত্তিদের বিচ্ছেদের আলোচনার মধ্যে এবার নতুন করে সামনে এসেছে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূরের সংসার ভাঙার গুঞ্জন। ২০১৯ সালে সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই তারকা। তবে বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে অনেকেই মনে করছেন, তাদের বিচ্ছেদ এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে মূলত সংশ্লিষ্ট ডিওপির সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কই প্রধান কারণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপড়েন এবং আলাদা থাকার গুঞ্জন নিয়ে বিনোদনপাড়ায় তুমুল চর্চা চলছে। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও তার মন ঘোরানো সম্ভব হয়নি। মামুন একজন বড় তারকাকে পেয়ে আমার সাত বছরের ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের কোনো মূল্য দিল না।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই দাম্পত্য কলহের নেপথ্যে রয়েছে শোবিজ অঙ্গনেরই একজন ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি (ডিওপি) আবদুল মামুনের সঙ্গে সাবিলা নূরের নতুন সম্পর্কের গুঞ্জন। জানা যায়, ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং চলাকালে কাজের সুবাদে মামুনের সঙ্গে অভিনেত্রীর পরিচয় হয়, যা পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। শুটিং সেটে তাদের এই ঘনিষ্ঠতা পুরো ইউনিটের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’ ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, সাবিলা নূরের দাম্পত্য দূরত্বের খবর প্রকাশ্যে আসার শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহশিল্পী শাকিব খানের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে কিছু জল্পনাকল্পনা ছড়ানো হয়েছিল।
এই নতুন সম্পর্কের প্রভাব শুধু সাবিলা নূরের সংসারেই নয়, বরং তিশা নামের এক তরুণীর জীবনেও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সহকারী পরিচালক থেকে প্রযোজনা জগতে আসা তিশা জানান, দীর্ঘ সাত বছর ধরে আবদুল মামুনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের বিয়ের বিষয়টিও প্রায় চূড়ান্ত ছিল। ‘রকস্টার’ সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই চলতি বছরের ১৫ মে তাদের বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিশা অভিযোগ করেন, সাবিলা নূরের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে বিয়ের মাত্র ১০ দিন আগে মামুন তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো ঘটনাটি কেন্দ্র করে শোবিজে এখন তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমনকি এতে কাজের ব্যাঘাত ঘটায় প্রযোজনা পক্ষ তাকে পরিবর্তনের কথাও ভেবেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করার স্বার্থেই বিষয়টি চেপে রাখা হয়। একজন নারী হয়েও তিনি আরেকজন নারীর ক্ষতির কথা ভাবেননি। পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও মামুনের প্রতি আবেগ থেকে তিনি তাতে সম্মতি দেননি।
এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ‘রকস্টার’ সিনেমার পরিচালক আজমান রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে এ নিয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, এই জোরালো গুঞ্জন ও গুরুতর অভিযোগের বিপরীতে অভিনেত্রী সাবিলা নূর কিংবা তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্পষ্টীকরণ পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে তাই ধোঁয়াশা ও আলোচনার রেশ রয়েই গেছে।

























