ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে সাঁথিয়ায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ফ্রান্সে কারফিউয়ে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, নতুন বিক্ষোভের শঙ্কা শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্টোরে ধোঁয়া তুরস্কের সঙ্গে বিতর্কিত সামুদ্রিক চুক্তিতে অনুমোদন লিবিয়ার পার্লামেন্টের মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পরিত্যক্ত শুটারগান ও কার্তুজ উদ্ধার কলকারখানায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের ভাড়া বাসায় ডিজে পার্টি ও অসামাজিক রাজাপুরে ইজিবাইক উল্টে ১০ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই আস্থা পুনর্গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের উত্থাপিত সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো সম্ভাবনা নেই। গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পাঠিয়েছিল তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দকৃত অর্থ অবমুক্ত করা এবং দেশটির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। তবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছ থেকে আসা সাড়া বা জবাবকে ইরান ‘অপর্যাপ্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা।

মঙ্গলবার তেহরানে সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও মোহসেন রেজাই একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তবে আলোচনার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই এগোবে না। এ বিষয়ে ইরানের সাধারণ জনগণ এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও তেহরান তার অবস্থানে অনড়। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রেজাই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও ইরান থেকে সরানো হবে না; বরং এসব সম্পদ দেশের জনগণের স্বার্থে অভ্যন্তরেই ব্যবহৃত হবে। মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা কমানোর মার্কিন দাবি ও তেহরানের তা ধরে রাখার অনড় অবস্থানের কারণেই পারমাণবিক আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়েও ইরান নিজস্ব শর্ত মানার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহারসহ তেহরানের ন্যায্য দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত এই নৌপথের বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না, তা এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই আস্থা পুনর্গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের উত্থাপিত সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো সম্ভাবনা নেই। গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পাঠিয়েছিল তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দকৃত অর্থ অবমুক্ত করা এবং দেশটির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। তবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছ থেকে আসা সাড়া বা জবাবকে ইরান ‘অপর্যাপ্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা।

মঙ্গলবার তেহরানে সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও মোহসেন রেজাই একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তবে আলোচনার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই এগোবে না। এ বিষয়ে ইরানের সাধারণ জনগণ এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও তেহরান তার অবস্থানে অনড়। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রেজাই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও ইরান থেকে সরানো হবে না; বরং এসব সম্পদ দেশের জনগণের স্বার্থে অভ্যন্তরেই ব্যবহৃত হবে। মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা কমানোর মার্কিন দাবি ও তেহরানের তা ধরে রাখার অনড় অবস্থানের কারণেই পারমাণবিক আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়েও ইরান নিজস্ব শর্ত মানার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহারসহ তেহরানের ন্যায্য দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত এই নৌপথের বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না, তা এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।