শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে
- আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই আস্থা পুনর্গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের উত্থাপিত সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো সম্ভাবনা নেই। গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পাঠিয়েছিল তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের জব্দকৃত অর্থ অবমুক্ত করা এবং দেশটির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। তবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছ থেকে আসা সাড়া বা জবাবকে ইরান ‘অপর্যাপ্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা।
মঙ্গলবার তেহরানে সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও মোহসেন রেজাই একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তবে আলোচনার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই এগোবে না। এ বিষয়ে ইরানের সাধারণ জনগণ এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও তেহরান তার অবস্থানে অনড়। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রেজাই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও ইরান থেকে সরানো হবে না; বরং এসব সম্পদ দেশের জনগণের স্বার্থে অভ্যন্তরেই ব্যবহৃত হবে। মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা কমানোর মার্কিন দাবি ও তেহরানের তা ধরে রাখার অনড় অবস্থানের কারণেই পারমাণবিক আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়েও ইরান নিজস্ব শর্ত মানার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহারসহ তেহরানের ন্যায্য দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত এই নৌপথের বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না, তা এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

























