চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১২:০৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন পথ খুঁজতে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এ সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সফরসূচি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এছাড়াও তিনি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা বা জাইকার প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক এবং জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে অংশগ্রহণ করবেন।
এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদের জন্য জাপানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। মূলত ১২টি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রস্তাব সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থায় ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং মাতারবাড়ী ও সমন্বিত শিল্প-বাণিজ্যিক কেন্দ্র উন্নয়নে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে ঢাকা। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, অটোমোবাইল ও উৎপাদন খাতে ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন এবং জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতে ২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সাথে কৃষি, পর্যটন ও সমুদ্র অর্থনীতিতেও জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে। দুই দেশ বর্তমানে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থী পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিনিময় নিয়েও দুই পক্ষ খোলামেলা আলাপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। সামগ্রিকভাবে, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

























