ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনে ড্রোন কারখানা: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও ভারতের উদ্বেগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি জাতীয় পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শাবিপ্রবির ‘স্টিচ এআই’ বিশেষ কোনো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ দেখেই অনুপ্রাণিত ভারতের তরুণরা: নেহা বোরা চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ফের বাড়ল ব্যয় ও পাঁচ সপ্তাহে পাঁচ খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের হেনস্থা: উদ্বেগের হিড়িক ট্রাম্পকে ‘স্বামী’ সম্বোধন করে বিড়ম্বনায় নতুন প্রেস সচিব ড. ইউনূসকে হেনস্তা কেবল শুরু

চীনে ড্রোন কারখানা: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও ভারতের উদ্বেগ

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে একটি ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান তৈরির কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূলত নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে বিমান বাহিনী।

বগুড়া বিমানঘাঁটিতে স্থাপিতব্য এই কারখানার জন্য মোট ৬০৮ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কারখানা অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক প্রযুক্তি আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা। চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল, যারা রাডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কারখানাটিতে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম এবং খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে এমন উন্নত মানের দুই ধরনের ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো সামরিক নজরদারির পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তার কাজেও ব্যবহৃত হবে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশ থেকে সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ফলে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমবে। তবে এই প্রকল্পটি নিয়ে নয়াদিল্লিতে তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক ও কৌশলগত উদ্বেগ। ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ ভৌগোলিক সংলগ্নতা; বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, চীনা প্রযুক্তির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি এবং সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে সক্ষম ড্রোনের ব্যবহার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এছাড়া চীনা প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, যদিও এমন আশঙ্কার সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে চীনের প্রভাব নতুন নয়। নৌবাহিনীর সাবমেরিন, বিভিন্ন যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রাডার ব্যবস্থায় আগে থেকেই চীনা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এই ড্রোন কারখানাটি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতারই একটি নতুন ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, প্রকল্পটির চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে ড্রোনের প্রকৃত সক্ষমতা এবং বাংলাদেশ নিজস্ব প্রযুক্তির তথ্য সুরক্ষায় কতটা কঠোর অবস্থান নিতে পারে, তার ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনে ড্রোন কারখানা: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও ভারতের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে একটি ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান তৈরির কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূলত নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে বিমান বাহিনী।

বগুড়া বিমানঘাঁটিতে স্থাপিতব্য এই কারখানার জন্য মোট ৬০৮ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কারখানা অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক প্রযুক্তি আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা। চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল, যারা রাডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কারখানাটিতে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম এবং খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে এমন উন্নত মানের দুই ধরনের ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো সামরিক নজরদারির পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তার কাজেও ব্যবহৃত হবে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশ থেকে সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ফলে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমবে। তবে এই প্রকল্পটি নিয়ে নয়াদিল্লিতে তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক ও কৌশলগত উদ্বেগ। ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ ভৌগোলিক সংলগ্নতা; বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, চীনা প্রযুক্তির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি এবং সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে সক্ষম ড্রোনের ব্যবহার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এছাড়া চীনা প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, যদিও এমন আশঙ্কার সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে চীনের প্রভাব নতুন নয়। নৌবাহিনীর সাবমেরিন, বিভিন্ন যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রাডার ব্যবস্থায় আগে থেকেই চীনা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এই ড্রোন কারখানাটি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতারই একটি নতুন ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, প্রকল্পটির চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে ড্রোনের প্রকৃত সক্ষমতা এবং বাংলাদেশ নিজস্ব প্রযুক্তির তথ্য সুরক্ষায় কতটা কঠোর অবস্থান নিতে পারে, তার ওপর।