প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন জোট ‘বদর’: যুক্ত চার দেশ
- আপডেট সময় : ০৮:০০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশগুলো এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো যৌথভাবে সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তিগত তথ্য বিনিময়, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।
উক্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সউদ বিন আব্দুল রহমান বিন হাসান আল থানি, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসজাফরি এসজামসুদ্দিন এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। মূলত তুরস্কের ‘প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর সমন্বয়ে পুরো কার্যক্রমটি পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির পরিধি শুধুমাত্র সরঞ্জাম সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এর মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থাকে সংহত ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। এটি ন্যাটোর মতো কোনো সামরিক জোট নয়। তাই ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ কোনো সদস্য রাষ্ট্র বাইরের কোনো আক্রমণের মুখে পড়লে অন্য দেশগুলোকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এটি সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা কূটনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। এর আগে গত আগস্ট মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ন্যাটোর আদলে তৈরি সেই চুক্তিতে সদস্য দেশগুলোর ওপর বহিঃশত্রুর আক্রমণকে সম্মিলিত আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বদর সমঝোতা স্মারকটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে করা হয়েছে, যা কেবল শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।




















