যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি ২০২৭ চালুর নির্দেশ আদালতের
- আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভার্সিটি ভিসা বা ডিভি লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধন অবিলম্বে শুরু করার ব্যাপারে একটি মার্কিন জেলা আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ প্রদান করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মসূচি থমকে থাকার পর বিচারিক এই আদেশের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া আবার চালুর নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে বিচারকের রায় চ্যালেঞ্জ করে মার্কিন প্রশাসন আপিল করার ফলে ঘোষিত সময়সূচি বাস্তবায়নে কিছু অনিশ্চয়তা এখনও থেকে যাচ্ছে। এতে ডিভি-২০২৭ কর্মসূচির আওতায় ভিসা দেওয়ার সুযোগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কর্মসূচিটির আওতায় বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দের বিধান রয়েছে। ফলে নিবন্ধন শুরুর সময়সূচি, আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের আপিলের অগ্রগতি কর্মসূচিটিতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আদালতের সময়সীমা ও নির্দেশনা
জেলা আদালতের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে। সেই সাথে ১ নভেম্বর থেকে বিশ্বব্যাপী আবেদন গ্রহণ শুরু করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের জন্য পূর্ণ ৩০ দিনের নিবন্ধনের সময় নিশ্চিত করার নির্দেশ এসেছে আদালতের পক্ষ থেকে।
- ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ডিভি-২০২৭ নিবন্ধনের অফিশিয়াল সূচি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করে ৩০ দিন ধরে তা চালু রাখার কথা বলা হয়েছে।
- লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিদের তালিকা আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে অবহিত করার নির্দেশ রয়েছে।
- পুরো প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত করে দ্রুততম সময়ে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
আইনি লড়াই ও মামলার পটভূমি
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো সময়সীমা নির্দিষ্ট না করেই ডিভি লটারি কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধনের নতুন তারিখ ঘোষণা না করায় চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আবেদনকারীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে আইনজীবী কার্টিস মরিসন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে, সময়মতো নিবন্ধন শুরু না হলে যোগ্যদের বাছাই করা সম্ভব হবে না এবং অভিবাসীরা আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। এই যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে গত ১৪ অক্টোবর জেলা জাজ জিনসুক ওহতা প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও স্টেট ডিপার্টমেন্টকে ভিসা লটারি চালু করার সুস্পষ্ট আদেশ প্রদান করেন।
ডিভি লটারির আইনগত সুযোগ ও যোগ্যতা
১৯৯০ সালের মার্কিন অভিবাসন আইনের আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডাইভার্সিটি ভিসা প্রোগ্রামের সূচনা হয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবে যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলকভাবে কম, প্রধানত সেসব দেশের নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পার পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা নির্দিষ্ট পেশাগত জ্যেষ্ঠতা ছাড়াই সাধারণ নাগরিকদের জন্য মার্কিন মুলুকে প্রবেশের এটি একটি অনন্য মাধ্যম।
- প্রযোজ্য আইনের অধীনে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার প্রার্থীকে গ্রিন কার্ড বা ডাইভার্সিটি ভিসা প্রদান করা হয়।
- নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা সুনির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক।
- লটারিতে নাম ওঠাই ভিসা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না; প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণ হতে হয়।
- মূল আবেদনকারীর যোগ্য জীবনসঙ্গী ও সন্তানরাও নিয়ম অনুসারে মার্কিন ভিসার আওতায় আসেন।
প্রশাসনিক আপিল ও চূড়ান্ত সময়সীমা
আদালতের এই সাম্প্রতিক আদেশের পর বাইডেন প্রশাসন বিচারিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আদালতের নতুন কোনো আদেশ বা স্থগিতাদেশ এলে নিবন্ধনের ঘোষিত তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। আইনজীবী কার্টিস মরিসনের মতে, কেবল লটারি চালু করাই যথেষ্ট নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পূর্ণ ধাপগুলো শেষ করাই আসল চ্যালেঞ্জ।
মার্কিন অভিবাসন নীতিতে সাধারণ আবেদনকারীদের সুযোগ বনাম দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তুমুল বিতর্ক রয়েছে। তবুও বর্তমান আইনি নিয়ম অনুযায়ী, ডিভি-২০২৭ অর্থবছরের ভিসা ইস্যু করার সর্বশেষ আইনি সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তাই বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ ও সরকারের আপিলের ফলাফলের দিকে এখন চেয়ে আছেন সারাবিশ্বের অভিবাসন প্রত্যাশীরা।
























