ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

প্রশান্ত মহাসাগরে তাপমাত্রা রেকর্ড ভাঙার আভাস, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-এর নতুন মৌসুমি পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। চলতি বছরের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি তার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাতে পারে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) নতুন মৌসুমি পূর্বাভাসের বরাতে এ সতর্কতার কথা জানানো হয়। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে।

ডব্লিউএমও’র মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, তাদের রেকর্ড করা ইতিহাসে তাপমাত্রার এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি। এর আগে শক্তিশালী এল নিনোর সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল, কিন্তু এবারের পূর্বাভাস সেই মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের অংশ এই এল নিনো হলো নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার একটি ঘটনা। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক টম ফ্লেচার এবারের এল নিনোকে ‘ধ্বংসাত্মক শক্তির’ উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ চরম খাদ্যসংকটের সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষ করে খরাপ্রবণ এলাকা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী এবং যারা আগে থেকেই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তারা সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে থাকবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় যেমন বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তেমনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের অভাবে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লাতিন আমেরিকার কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার পাশাপাশি অন্য অঞ্চলে খরার প্রকোপ দেখা দিতে পারে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে একই জলবায়ুগত ঘটনার প্রভাবে একদিকে খরা, অন্যদিকে বন্যা মোকাবিলা করতে হতে পারে বিভিন্ন দেশকে।

জাতিসংঘের মতে, এল নিনো নিজে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট না হলেও, বৈশ্বিক উষ্ণতা এর প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুর্যোগের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখন থেকেই আগাম সতর্কতা অবলম্বন, পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির মজুত নিশ্চিত করা, কৃষকদের সহায়তার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের এল নিনো বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠলে এর প্রভাব খাদ্য উৎপাদন, পানির সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য, আবাসন ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, সময়মতো সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে সম্ভাব্য দুর্যোগের মানবিক ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

পূর্বাভাস অনুযায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রকৃত মাত্রা এল নিনোর শক্তির ওপর নির্ভরশীল। তবুও সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় এখন থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রশান্ত মহাসাগরে তাপমাত্রা রেকর্ড ভাঙার আভাস, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-এর নতুন মৌসুমি পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। চলতি বছরের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি তার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাতে পারে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) নতুন মৌসুমি পূর্বাভাসের বরাতে এ সতর্কতার কথা জানানো হয়। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে।

ডব্লিউএমও’র মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, তাদের রেকর্ড করা ইতিহাসে তাপমাত্রার এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি। এর আগে শক্তিশালী এল নিনোর সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল, কিন্তু এবারের পূর্বাভাস সেই মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের অংশ এই এল নিনো হলো নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার একটি ঘটনা। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক টম ফ্লেচার এবারের এল নিনোকে ‘ধ্বংসাত্মক শক্তির’ উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ চরম খাদ্যসংকটের সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষ করে খরাপ্রবণ এলাকা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী এবং যারা আগে থেকেই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তারা সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে থাকবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় যেমন বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তেমনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের অভাবে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লাতিন আমেরিকার কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার পাশাপাশি অন্য অঞ্চলে খরার প্রকোপ দেখা দিতে পারে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে একই জলবায়ুগত ঘটনার প্রভাবে একদিকে খরা, অন্যদিকে বন্যা মোকাবিলা করতে হতে পারে বিভিন্ন দেশকে।

জাতিসংঘের মতে, এল নিনো নিজে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট না হলেও, বৈশ্বিক উষ্ণতা এর প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুর্যোগের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখন থেকেই আগাম সতর্কতা অবলম্বন, পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির মজুত নিশ্চিত করা, কৃষকদের সহায়তার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের এল নিনো বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠলে এর প্রভাব খাদ্য উৎপাদন, পানির সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য, আবাসন ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, সময়মতো সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে সম্ভাব্য দুর্যোগের মানবিক ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

পূর্বাভাস অনুযায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রকৃত মাত্রা এল নিনোর শক্তির ওপর নির্ভরশীল। তবুও সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় এখন থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।