রাজধানীর বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ছে, কমেছে ডিমের দাম
- আপডেট সময় : ০৪:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন মৌসুমের শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তির হাওয়া লেগেছে, আবার একই সময়ে মুরগির দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। তবে আশার কথা হলো, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমে সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার, রামপুরা, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সবজির বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির আধিক্য বাড়ছে। বাজারে নতুন আসা ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও শিমের সরবরাহ বাড়ায় অনেক সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে আসছে। শিমের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমে এখন ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। মোহাম্মদপুর টাউন হলের হেলাল ট্রেডার্সের মালিক আবু হেলাল বলেন, ডিমের দাম প্রতিদিনই ওঠানামা করে।
বাজারে মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারে দেখা গেছে, ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোলের মতো সবজি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও কাঁকরোলের দামও একই। আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তুলনামূলক কম দামের সবজির মধ্যে রয়েছে পেঁপে (৩০ টাকা) ও মিষ্টিকুমড়া (৫০ টাকা)। প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লতিয়ানো ও অন্যান্য পুরোনো সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম জানান, দুই সপ্তাহ ধরে শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে এবং সরবরাহের উন্নতির সাথে দামও ধীরে ধীরে কমছে। ক্রেতারাও এখন সবজির বাজারে তুলনামূলক কম মূল্যে পেঁপে ও লাউয়ের মতো সবজি কিনতে পারছেন বলে জানিয়েছেন সৌরভ আহমেদ নামের এক ক্রেতা।
তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মুরগির দামের চিত্র ভিন্ন। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। রায়ের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খামারে সরবরাহ কম থাকা, পরিবহন ব্যয় এবং পোলট্রি খাবারের উচ্চমূল্যই এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। সোনালি মুরগির দামও সাধারণত ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে থাকে।
ডিমের বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কমে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় নেমে এসেছে। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। তবে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে দাম কিছুটা বেশি, যেখানে প্রতি হালি ডিম ৪৬ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ী আসাদুল্লাহর মতে, সরকারি নজরদারি ও পাইকারি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় ডিমের দাম কমেছে, যা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। গত সপ্তাহে বাদামি ডিমের ডজন ১৫০ টাকাতেও বিক্রি করেছেন। আড়তে ডিম মজুত করে রাখার সুযোগও নেই।
মাংস ও মাছের বাজারে বড় কোনো অস্থিরতা নেই। গরুর মাংস আগের মতোই ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২২০ টাকা এবং রুই ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১১০০ টাকা এবং বাইম মাছ ৬০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা বা নদীর বেলে মাছের মতো কিছু মাছের কেজিপ্রতি দর এক হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মাছ বিক্রেতা মোস্তাকিন জানান, চাহিদা অনুযায়ী দিনের বিভিন্ন সময়ে দামের সামান্য তারতম্য হলেও সামগ্রিক বাজারে মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মাছের আকার, জীবিত না মৃত এবং বাজারভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে।
উৎসবের ছুটির কারণে রাজধানীর বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে এতে নিত্যপণ্যের দরে বিশেষ কোনো পরিবর্তন আসেনি। চাল, ডাল ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো উচ্চপর্যায়ে স্থির হয়ে আছে। সামগ্রিকভাবে শীতকালীন সবজির সহজলভ্যতা এবং ডিমের দাম কমায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও মুরগি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামের চাপে সাধারণ মানুষের বাজেট এখনো টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। দুর্গাপূজার টানা ছুটির প্রভাব পড়েছে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিতে।






















