ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৬ নভেম্বর কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিক টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছিল: জামায়াত আমির বিএনপি সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে না: অভিযোগ আখতার হোসেনের সাইবার হামলার শঙ্কায় বন্ধ জনতা ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা, স্থগিত একনেকের বৈঠক মাদরাসায় শারীরিক শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়: ড. মিজানুর রহমান আজহারী ইরানে হামলা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট বাতিল: চরম ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ছক, নিরাপত্তা জোরদার করল ওয়াশিংটন ফ্রান্সের বিক্ষোভে স্পাইডারম্যানসহ নামলেন সুপারহিরোর সাজে প্রতিবাদকারীরা

১৬ নভেম্বর কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিক টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা রানওয়ে এবং অত্যাধুনিক যাত্রী টার্মিনাল নিয়ে নতুনরূপে সেজেছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, আগামী ১৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্প্রসারিত বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যা বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচলের সক্ষমতা তৈরি করেছে। এর ফলে পর্যটন শহর কক্সবাজারের সঙ্গে বিশ্বের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলতে যাচ্ছে।

প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের নতুন যাত্রী টার্মিনালটিতে যাত্রীদের জন্য অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, লাগেজ ও কনভেয়ার বেল্ট, লিফট, এসকেলেটর এবং বোর্ডিং ব্রিজের মতো আধুনিক অবকাঠামো যুক্ত হয়েছে। টার্মিনালটির যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. নূর নবী জানান, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মানদণ্ড অনুযায়ী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক মো. সিফাত উল্লাহর ভাষ্যমতে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে এখানে শক্তিশালী এক্স-রে স্ক্যানার ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে। টার্মিনালে বহির্গমন অংশে চারটি ও আগমন অংশে ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার ছাড়াও সিসিটিভি নেটওয়ার্ক ও শুল্কমুক্ত দোকানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এই উন্নয়নের ফলে কক্সবাজারের পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা মনে করেন, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে। তিনি জানান, এর মাধ্যমে শুঁটকি ও তাজা সবজির মতো পণ্য চট্টগ্রাম হয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হবে। নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ.ন.ম. হেলাল উদ্দিনের মতে, এই পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

তবে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পেতে বিমানবন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মিত ফ্লাইট শিডিউল বজায় রাখা, সরকারি অনুমোদন ও পর্যাপ্ত পর্যটন অবকাঠামোসহ কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয় করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক এই টার্মিনাল চালুর ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও বিনিয়োগকারীরা সরাসরি কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহন খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এতে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

১৬ নভেম্বর কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিক টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা রানওয়ে এবং অত্যাধুনিক যাত্রী টার্মিনাল নিয়ে নতুনরূপে সেজেছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, আগামী ১৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্প্রসারিত বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যা বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচলের সক্ষমতা তৈরি করেছে। এর ফলে পর্যটন শহর কক্সবাজারের সঙ্গে বিশ্বের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলতে যাচ্ছে।

প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের নতুন যাত্রী টার্মিনালটিতে যাত্রীদের জন্য অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, লাগেজ ও কনভেয়ার বেল্ট, লিফট, এসকেলেটর এবং বোর্ডিং ব্রিজের মতো আধুনিক অবকাঠামো যুক্ত হয়েছে। টার্মিনালটির যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. নূর নবী জানান, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মানদণ্ড অনুযায়ী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক মো. সিফাত উল্লাহর ভাষ্যমতে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে এখানে শক্তিশালী এক্স-রে স্ক্যানার ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে। টার্মিনালে বহির্গমন অংশে চারটি ও আগমন অংশে ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার ছাড়াও সিসিটিভি নেটওয়ার্ক ও শুল্কমুক্ত দোকানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এই উন্নয়নের ফলে কক্সবাজারের পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা মনে করেন, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে। তিনি জানান, এর মাধ্যমে শুঁটকি ও তাজা সবজির মতো পণ্য চট্টগ্রাম হয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হবে। নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ.ন.ম. হেলাল উদ্দিনের মতে, এই পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

তবে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পেতে বিমানবন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মিত ফ্লাইট শিডিউল বজায় রাখা, সরকারি অনুমোদন ও পর্যাপ্ত পর্যটন অবকাঠামোসহ কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয় করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আধুনিক এই টার্মিনাল চালুর ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও বিনিয়োগকারীরা সরাসরি কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহন খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এতে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।