ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চরফ্যাশন-ঢাকা নৌরুটে রোটেশন প্রথায় জিম্মি লঞ্চ যাত্রীরা চাঁদাবাজদের ধরতে আসছে নতুন আইন: আইজিপি নতুন পোশাকে যাত্রা শুরু করছে পিআইএ কেবিন ক্রু ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ হারালেন চার পাইলট চৌদ্দগ্রামে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে ফেরানো মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত: শামা ওবায়েদ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা পুলিশ বল প্রয়োগে ফ্যাসিবাদী, না করলে দুর্বল: আইজিপি ফেনীর ফাজিলপুরবাসীর দাবী আলহাজ্ব মাওলানা নুরুল আমিনকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হোক সংবিধান সংশোধন কমিটির নবম বৈঠক: প্রাধান্য পাচ্ছে জুলাই সনদ

চরফ্যাশন-ঢাকা নৌরুটে রোটেশন প্রথায় জিম্মি লঞ্চ যাত্রীরা

  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার চরফ্যাশন থেকে ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলের তথাকথিত রোটেশন প্রথা সাধারণ যাত্রীদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত লঞ্চের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মালিকপক্ষের বাণিজ্যিক স্বার্থে প্রতিদিন সব লঞ্চ চালানো হয় না। এর ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই রোটেশন প্রথার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। টিকিট ও কেবিন নিয়ে এই নৈরাজ্যের মুখে যাত্রীরা প্রায়ই জিম্মি হয়ে পড়ছেন। এতে এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লঞ্চমালিকদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে প্রতিদিন মাত্র এক থেকে দুটি লঞ্চ চলাচল করায় আসন ও কেবিনের তীব্র সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণের সময় এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। কেবিন পেতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সুপারিশ বা ফোন করানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। যাত্রী মো. আলমাস জানান, গত পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে চরফ্যাশন ফেরার পথে একটি সিঙ্গেল কেবিনের জন্য তাকে দুই হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের জন্য কেবিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে। ‎ ‎যাত্রী মো. আলমাস বলেন, পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনে আসার সময় একটি সিঙ্গেল কেবিনের জন্য ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি না হলে কেবিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কেবিন পেতে একজন ভিআইপি ব্যক্তিকে দিয়ে ফোন করাতে হয়েছে।

চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন মিয়ার মতে, এই এলাকার অনেক মুমূর্ষু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ঢাকায় পাঠাতে হয়। লঞ্চে কেবিন বা পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই ডেকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করেন, যা অসুস্থ রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভুক্তভোগীদের দাবি, মালিকপক্ষের বাণিজ্যিক মুনাফার কাছে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রতিবাদের মুখে রোটেশন পদ্ধতি বন্ধ করা হলেও কিছুদিন পরই তা পুনরায় চালু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

চরফ্যাশন বেতুয়া নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক পুতুল চন্দ্র রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা-চরফ্যাশন রুটে তাসরিফ, কর্ণফুলী ও টিপু কোম্পানির লঞ্চ চলাচলের বৈধ অনুমতি রয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ যাত্রী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে রোটেশন পদ্ধতিতে অনিয়মিত লঞ্চ পরিচালনা করছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়লেও উৎসবের সময় তিনটি লঞ্চই চালু থাকে। বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এ ছাড়া রোটেশন প্রথা বন্ধের দাবিতে স্থানীয়ভাবেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চরফ্যাশন-ঢাকা নৌরুটে রোটেশন প্রথায় জিম্মি লঞ্চ যাত্রীরা

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন থেকে ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলের তথাকথিত রোটেশন প্রথা সাধারণ যাত্রীদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত লঞ্চের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মালিকপক্ষের বাণিজ্যিক স্বার্থে প্রতিদিন সব লঞ্চ চালানো হয় না। এর ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই রোটেশন প্রথার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। টিকিট ও কেবিন নিয়ে এই নৈরাজ্যের মুখে যাত্রীরা প্রায়ই জিম্মি হয়ে পড়ছেন। এতে এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লঞ্চমালিকদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে প্রতিদিন মাত্র এক থেকে দুটি লঞ্চ চলাচল করায় আসন ও কেবিনের তীব্র সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণের সময় এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। কেবিন পেতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সুপারিশ বা ফোন করানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। যাত্রী মো. আলমাস জানান, গত পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে চরফ্যাশন ফেরার পথে একটি সিঙ্গেল কেবিনের জন্য তাকে দুই হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের জন্য কেবিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে। ‎ ‎যাত্রী মো. আলমাস বলেন, পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনে আসার সময় একটি সিঙ্গেল কেবিনের জন্য ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি না হলে কেবিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কেবিন পেতে একজন ভিআইপি ব্যক্তিকে দিয়ে ফোন করাতে হয়েছে।

চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন মিয়ার মতে, এই এলাকার অনেক মুমূর্ষু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ঢাকায় পাঠাতে হয়। লঞ্চে কেবিন বা পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই ডেকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করেন, যা অসুস্থ রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভুক্তভোগীদের দাবি, মালিকপক্ষের বাণিজ্যিক মুনাফার কাছে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রতিবাদের মুখে রোটেশন পদ্ধতি বন্ধ করা হলেও কিছুদিন পরই তা পুনরায় চালু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

চরফ্যাশন বেতুয়া নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক পুতুল চন্দ্র রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা-চরফ্যাশন রুটে তাসরিফ, কর্ণফুলী ও টিপু কোম্পানির লঞ্চ চলাচলের বৈধ অনুমতি রয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ যাত্রী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে রোটেশন পদ্ধতিতে অনিয়মিত লঞ্চ পরিচালনা করছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়লেও উৎসবের সময় তিনটি লঞ্চই চালু থাকে। বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এ ছাড়া রোটেশন প্রথা বন্ধের দাবিতে স্থানীয়ভাবেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।