ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শত কোটি টাকার মালিক সাব-রেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের দুর্নীতির পাহাড় ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’: নামকরণের প্রেক্ষাপট ও ভারত-বাংলাদেশ উপকূলে বর্তমান প্রভাব এলপিজির দাম না বাড়ানোর দাবি ক্যাবের, বৃহস্পতিবার শুনানি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ শিশুদের চেয়ে বয়স্কদের সংখ্যা বাড়ল চীনে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান মিরপুরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে ফেরেননি মুশফিক গাজীপুরে বাবার মৃত্যু: পলাতক ছেলে ফোন চার্জ দিতে গিয়ে আটক মেয়াদ শেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ রাকসুর, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ইসরাইলের নির্বাচনে রেকর্ড ১৮টি আসন পেতে পারে আরব দলগুলো

শত কোটি টাকার মালিক সাব-রেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের দুর্নীতির পাহাড়

  • আপডেট সময় : ১১:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার খন্দকার নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে পাহাড়সম সম্পদ গড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন নামে-বেনামে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য। জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় তার মাসিক অবৈধ আয় ছিল ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মতো। বর্তমানে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় শতকোটি টাকা ছুঁয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈধ আয়ের সঙ্গে এই বিপুল অঢেল সম্পত্তির কোনো সামঞ্জস্য না মেলায় বিষয়টি নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারি বেতনে এত সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব, তা খতিয়ে দেখছে কমিশন। অর্জিত এই সম্পদ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রথমে এর সত্যতা স্বীকার করেন। অভিযোগ রয়েছে-ঢাকার মিরপুর এলাকায় সাবরেজিস্ট্রার হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় নুরুল আমিন প্রতি মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করতেন।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে টাঙ্গাইল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নুরুল আমিনের গড়ে তোলা সম্পদের ফিরিস্তি।

টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় স্ত্রীর নামে তার পাঁচতলা দুটি ইউনিটের একটি বাড়ি রয়েছে। শুধু এই বাড়ি নির্মাণেই প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং জমির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। এছাড়া একই এলাকায় খাদ্যগুদামের পাশে তার ৫ শতাংশ জমি রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। টাঙ্গাইলের প্যারাডাইস শাহজাহান সিরাজ নিবাস ভবনে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া ভিক্টোরিয়া রোডের দত্ত টাওয়ারে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি দোকান এবং বাসাইলের বিয়ালা গ্রামে নিজের বাড়ি নির্মাণে প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি। টাঙ্গাইলের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ‘প্যারাডাইস শাহজাহান সিরাজ নিবাস’ ভবনের নিচতলায় পশ্চিম পাশের একটি ফ্ল্যাট বর্তমানে ‘স্বপ্ন’ সুপারশপকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর পূর্বাচলে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট এবং মিরপুর ১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটে তার দোকান ও অফিস রয়েছে। নিজের পাশাপাশি বড় ভাই, বোন, ভাগনে, শাশুড়ি ও শ্যালকদের নামেও অনেক জমি ও সম্পদ কিনেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও নুরুল আমিনের দাবি, ২০০৯ সালে সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগ দিয়ে ২০২৪ সালে অবসরে গেছেন। টাঙ্গাইলের বাড়ি ভাড়া থেকে আয় হয় বলে জানান তিনি। তবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। গাড়িতে লোকজন আছেন জানিয়ে আলোচনার সময়টুকু এড়িয়ে যান এবং পরে আর ফোন রিসিভ করেননি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নুরুল আমিনের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে।

চাকরি জীবনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে শাস্তিমূলক বদলির ঘটনাও ঘটেছিল। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান তিনি। এদিকে দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তার সম্পদের বিষয়ে বর্তমানে যাচাই-বাছাই চলছে। অনুসন্ধান শেষ হলে শিগগিরই কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ও আয়ের উৎস নির্ধারণে জমির দলিল, নির্মাণ ব্যয়, ব্যাংক লেনদেন এবং আয়কর রিটার্নের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শত কোটি টাকার মালিক সাব-রেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের দুর্নীতির পাহাড়

আপডেট সময় : ১১:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার খন্দকার নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে পাহাড়সম সম্পদ গড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন নামে-বেনামে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য। জানা গেছে, ঢাকার মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় তার মাসিক অবৈধ আয় ছিল ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মতো। বর্তমানে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় শতকোটি টাকা ছুঁয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈধ আয়ের সঙ্গে এই বিপুল অঢেল সম্পত্তির কোনো সামঞ্জস্য না মেলায় বিষয়টি নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারি বেতনে এত সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব, তা খতিয়ে দেখছে কমিশন। অর্জিত এই সম্পদ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রথমে এর সত্যতা স্বীকার করেন। অভিযোগ রয়েছে-ঢাকার মিরপুর এলাকায় সাবরেজিস্ট্রার হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় নুরুল আমিন প্রতি মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করতেন।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে টাঙ্গাইল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নুরুল আমিনের গড়ে তোলা সম্পদের ফিরিস্তি।

টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় স্ত্রীর নামে তার পাঁচতলা দুটি ইউনিটের একটি বাড়ি রয়েছে। শুধু এই বাড়ি নির্মাণেই প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং জমির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। এছাড়া একই এলাকায় খাদ্যগুদামের পাশে তার ৫ শতাংশ জমি রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। টাঙ্গাইলের প্যারাডাইস শাহজাহান সিরাজ নিবাস ভবনে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া ভিক্টোরিয়া রোডের দত্ত টাওয়ারে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি দোকান এবং বাসাইলের বিয়ালা গ্রামে নিজের বাড়ি নির্মাণে প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি। টাঙ্গাইলের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ‘প্যারাডাইস শাহজাহান সিরাজ নিবাস’ ভবনের নিচতলায় পশ্চিম পাশের একটি ফ্ল্যাট বর্তমানে ‘স্বপ্ন’ সুপারশপকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর পূর্বাচলে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট এবং মিরপুর ১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটে তার দোকান ও অফিস রয়েছে। নিজের পাশাপাশি বড় ভাই, বোন, ভাগনে, শাশুড়ি ও শ্যালকদের নামেও অনেক জমি ও সম্পদ কিনেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও নুরুল আমিনের দাবি, ২০০৯ সালে সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগ দিয়ে ২০২৪ সালে অবসরে গেছেন। টাঙ্গাইলের বাড়ি ভাড়া থেকে আয় হয় বলে জানান তিনি। তবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। গাড়িতে লোকজন আছেন জানিয়ে আলোচনার সময়টুকু এড়িয়ে যান এবং পরে আর ফোন রিসিভ করেননি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নুরুল আমিনের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে।

চাকরি জীবনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে শাস্তিমূলক বদলির ঘটনাও ঘটেছিল। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান তিনি। এদিকে দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তার সম্পদের বিষয়ে বর্তমানে যাচাই-বাছাই চলছে। অনুসন্ধান শেষ হলে শিগগিরই কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ও আয়ের উৎস নির্ধারণে জমির দলিল, নির্মাণ ব্যয়, ব্যাংক লেনদেন এবং আয়কর রিটার্নের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।