তরুণদেরও বাড়ছে ঝুঁকি, চিকিৎসায় বড় চ্যালেঞ্জ সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ
- আপডেট সময় : ০৮:১৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 9
বিশেষ প্রতিবেদন | বিডিসংবাদ
স্ট্রোক মানেই শুধু বয়স্কদের রোগ এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি সঠিক নয়। বাংলাদেশে তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশে স্ট্রোকের বিস্তার নিয়ে ২০২২ সালে প্রকাশিত দেশব্যাপী এক গবেষণায় প্রতি এক হাজার মানুষের মধ্যে ১১ দশমিক ৩৯ জনের স্ট্রোকের ইতিহাস পাওয়া যায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ফলাফল নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী স্ট্রোক রোগীদের প্রায় ২৩ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের নিচে। তবে এই ফলাফল নির্দিষ্ট এলাকার গবেষণার ওপর ভিত্তি করে হওয়ায় একে দেশের সব রোগীর জাতীয় হার হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকির পেছনে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, তামাক ব্যবহার এবং কিছু হৃদ্রোগ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তাই বয়স কম বলে ঝুঁকি নেই এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া জীবন বাঁচাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, দৃষ্টিতে সমস্যা কিংবা ভারসাম্য হারানো স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
নির্দিষ্ট ধরনের স্ট্রোকে উপযুক্ত রোগীকে লক্ষণ শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রক্ত জমাট গলানোর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এর আগে মস্তিষ্কের স্ক্যান ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে চিকিৎসককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রক্তনালি থেকে জমাট অপসারণের বিশেষ চিকিৎসাও প্রয়োজন হতে পারে।
বাংলাদেশে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো সব অঞ্চলে সমানভাবে আধুনিক স্ট্রোক চিকিৎসা নিশ্চিত করা। জেলা পর্যায়ে দ্রুত সিটি স্ক্যান, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, জরুরি চিকিৎসা এবং পরবর্তী পুনর্বাসনসেবা বাড়ানো গেলে রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ আরও উন্নত হতে পারে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও তামাক বর্জন, সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তে চর্বির মাত্রাও পরীক্ষা করা উচিত।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশেও বিভিন্ন চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য স্ট্রোকের লক্ষণ চেনানো, ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা।
স্ট্রোক প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাব্যবস্থা। তরুণ হোক বা প্রবীণ স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

























