অনুমোদন জটিলতায় ১ নভেম্বরে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত
- আপডেট সময় : ০৮:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও রাতযাপনের সুযোগ চালুর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক বিভিন্ন অনুমোদনের জটিলতায় নির্ধারিত দিনে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। জানা গেছে, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় জাহাজ অপারেটররা তাদের কার্যক্রম চালু করতে পারছেন না।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে গত বৃহস্পতিবার পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভার পর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুমতি প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হলে আগামী ৪ অথবা ৫ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললেই ৪ বা ৫ নভেম্বর থেকে সার্ভিস শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়ে গেছে।
‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, গত ১২ অক্টোবরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ২৫ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। পরে ২৭ অক্টোবর একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত নিয়মানুযায়ী, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এরই মধ্যে তিনটি জাহাজের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। তবে জাহাজ চালুর জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতি পাওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের সিদ্ধান্ত হয়। পরে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তিনি আরও জানান, ট্যুরিজম বোর্ডের পক্ষ থেকে ১ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ পর্যটকের জন্য অনলাইন সফটওয়্যার চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনটি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সাতটি জাহাজ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে টুয়াক সাধারণ সম্পাদক আকতার নুর বলেছেন, জাহাজ ছাড়ার জন্য নির্ধারিত পন্টুনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, যা পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এর আগে ২৫ অক্টোবরের প্রাথমিক নির্দেশনায় পর্যটকদের কেবল দিনের বেলায় গিয়ে দিনেই ফিরে আসার নিয়ম থাকায় হোটেল ও জাহাজ মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। পরে সংশোধিত নির্দেশনায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের যাতায়াতের অনুমতি এবং পূর্বের ১০০ টাকার পরিবেশ সংরক্ষণ ফিও বাতিল করা হয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আগের নিয়মানুযায়ী কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকেই জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

























