সব বিমানবন্দরে আধুনিক পাখি তাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বেবিচক
- আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 8
দেশের সব বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড়োজাহাজের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি সচল বিমানবন্দরে কার্যকর পাখি নিয়ন্ত্রণ ও বন্যপ্রাণীজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সংস্থাটি।
বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, দেশের আটটি বিমানবন্দরের চাহিদা যাচাই করে ২৬টি আধুনিক পাখি তাড়ানোর বন্দুক সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য ছয়টি, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের জন্য চারটি করে এবং রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরের জন্য দুটি করে বন্দুক নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বেবিচকের কাছে ১১টি বন্দুক থাকলেও তার মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি। নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি পুরনো যন্ত্রগুলোর লাইসেন্স নবায়নের কাজও চলছে। এ অবস্থায় নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং বিদ্যমান বন্দুকগুলোর লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন জনবল কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে ১১ জন করে এবং বাকি চারটিতে পাঁচজন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে পাখি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৬৪ জন কর্মীর প্রয়োজন থাকলেও অনুমোদিত পদ রয়েছে মাত্র ১০টি, যার মধ্যে কর্মরত আছেন কেবল চারজন। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর বিমানবন্দরে পাখি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
বেবিচকের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিমানবন্দরগুলোতে পাখির সঙ্গে উড়োজাহাজের সংঘর্ষের ২১২টি ঘটনা ঘটেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৩৯টি। এর মধ্যে কেবল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই চলতি বছর ১৬৮টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা গত বছরের মোট ১৫৭টি ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। আসন্ন শীত মৌসুমে পাখির চলাচল বাড়ার আশঙ্কায় দ্রুত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিমানবন্দরের আশেপাশে ঝোপঝাড় ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারে স্থানীয় সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং শাহজালাল বিমানবন্দরের আদলে অন্যান্য স্থানেও উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিমানবন্দরগুলোতে উড়োজাহাজের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষের ২১২টি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে এ সংখ্যা ছিল ২৩৯টি। বিমানবন্দরের আশপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, আবর্জনা ফেলার স্থান অপসারণ এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট জমে পাখির সমাগম হয়—এমন স্থান নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিচ্ছে বেবিচক। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পাখির সঙ্গে সংঘর্ষে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ফ্লাইটের সময়সূচি ব্যাহত হওয়া এবং জরুরি অবতরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।





















