জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ, সতর্ক প্রশাসন
- আপডেট সময় : ১০:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো এবার জার্মানিতেও দানা বেঁধেছে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন। ‘জেন-জি’ প্রজন্মের ডাকা এই বিক্ষোভে শনিবার দেশজুড়ে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। মূলত উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবি নিয়ে তরুণরা রাজপথে নেমে আসছেন।
‘জেন-জেড রেগেল্ট’ বা ‘জেন-জি নিজেরাই দায়িত্ব নিচ্ছে’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে জার্মানির ৩৪টি শহরে এই বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বার্লিন, ফ্রাংকফুর্ট ও মিউনিখের মতো বড় শহরগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা, শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
হ্যালোইন উৎসবের দিনে আয়োজিত এই কর্মসূচির কারণে জার্মানির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যদিও আয়োজকদের প্রত্যাশা বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকবে, তবে জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়টির অভিযোগ, কিছু উগ্র বামপন্থি গোষ্ঠী এবং বিদেশি উগ্রপন্থি সংগঠন এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোজেক এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ফ্রান্সে অতীতে ঘটা সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, লুটপাট, বাড়িঘর বা পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কখনোই আদর্শ উদাহরণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় বার্লিনের কুরফুরস্টেনডাম বুলেভার্ডের অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের জানালা ও দরজা সুরক্ষিত করছে এবং প্রয়োজনে সময়ের আগেই দোকান বন্ধ রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ১৮ বছর বয়সি তরুণ স্টিভের। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তরুণেরা যেসব উদ্বেগের কথা বারবার জানাচ্ছে, তার কোনো কার্যকর সমাধান না দিয়ে সরকার বরং ব্যয় সংকোচন অব্যাহত রেখেছে এবং সাধারণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের দাবি শোনা না হলে সংবিধান প্রদত্ত সমাবেশের অধিকার ব্যবহার করে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উপেক্ষা করা বন্ধ না করা পর্যন্ত আমরা সংবিধানপ্রদত্ত সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করে যাব।’।
চলতি বছর ইউরোপের অন্যান্য দেশেও একই ধাঁচের আন্দোলনের প্রভাব দেখা গেছে। যেমন, সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের শাসক দলের পতন ঘটেছে, আবার ফ্রান্সে আন্দোলনের কিছু অংশ সহিংসতার দিকে মোড় নিয়েছিল। জার্মানিতেও তরুণদের এমন কঠোর অবস্থানের পেছনে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটিতে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে জার্মানির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক বেবি বুমার প্রজন্মের মানুষ অবসরে যাওয়ায় পেনশনব্যবস্থা ও জনসেবামূলক খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার কমে যাওয়ায় অর্থনীতি নতুন সংকটে পড়েছে।
তবে এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার কারণে এটি প্রকৃত অর্থেই তরুণদের আন্দোলন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এমনকি জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী সংগঠন ‘বিএসকে’ এই আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে এবং আগামী ২০ নভেম্বর পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।



















