যশোর বোর্ডে এইচএসসির ফলাফলে বিপর্যয়: পাশের হার কমেছে ৫%
- আপডেট সময় : ০২:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন। এ বছর বোর্ডে পাশের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা গতবারের তুলনায় ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ কম। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে; এবার ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৭৬৭ জন কম। অর্থাৎ, পাশের হারের পাশাপাশি কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও। যারা পড়াশোনায় মনোযোগী থাকবে, তারাই ভালো ফলাফল করবে। যেমন গতবারের সংখ্যা ছিল ২০, এবার ১৬।
ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনো উদ্বেগ প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, স্বচ্ছ ও প্রকৃত মূল্যায়নের কারণেই এমন ফল এসেছে। বোর্ড সচিবের ভাষ্যমতে, উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়নের ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত যোগ্যতার প্রতিফলন দেখতে পেয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, তারা সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার মান বা কোয়ালিটির ওপর গুরুত্বারোপ করছে। এ ছাড়া আইসিটিতেও শিক্ষার্থীরা বেশ খারাপ করেছে।
চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। তিনি বলেন, আমরা কোয়ালিটি চাই, কোয়ান্টিটি নয়। শিক্ষকরা উত্তরপত্র যেভাবে পেয়েছেন, মূল্যায়নও তেমন করেছেন। সেগুলো হচ্ছে ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ (৩), খুলনা সদরের ইন্ডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ (১১), কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির (৩), কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৭), রূপসা উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল (১) এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড। 3, 11, 27, 1, 12.
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ৪৩ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, ইংরেজি বিষয়ে দুর্বলতার কারণে সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এছাড়া আইসিটিতে ৬৭ দশমিক ৮৪, উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১, রসায়নে ৭৭ দশমিক ৪৮ এবং অ্যাকাউন্টিংয়ে ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
ইংরেজি ও আইসিটির মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের এই খারাপ ফলাফল কাটিয়ে উঠতে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। বোর্ড সচিব জানান, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়ে কড়াকড়ি নজরদারি করা হবে।
জেলার ভিত্তিতে ফলাফলের শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা, যেখানে পাসের হার ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তালিকার পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে খুলনা (৪৬ দশমিক ৬৫), চুয়াডাঙ্গা (৪৬ দশমিক ১৩), কুষ্টিয়া (৪৫ দশমিক ৩৮), সাতক্ষীরা (৪৩ দশমিক ৪৫), ঝিনাইদহ (৪১ দশমিক ৯৮), মেহেরপুর (৪০ দশমিক ৭৬), বাগেরহাট (৩৮ দশমিক ৮৬), মাগুরা (৩৭ দশমিক ৩৬) এবং সবশেষে নড়াইল (৩৬ দশমিক ৭৮) জেলা।
শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের ৫টি থেকে কমে এবার ৩টিতে নেমেছে। এ তালিকায় রয়েছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (৪৩ জন), খুলনার খালিশপুর নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৬১ জন) এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৩ জন)। তবে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এদের মধ্যে খুলনার ৬টি এবং কুষ্টিয়া, মাগুরা ও সাতক্ষীরার দুটি করে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তালিকাভুক্ত শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে
- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজ (৮) ও কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ (১)
- মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজ (১৫) ও মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২)
- সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (৩) ও একে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ (৪৯)
- মেহেরপুরের মরকা জাগরণ কলেজ (১)
- ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ (১৯)
- যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সবুজপল্লী কলেজ (৭)
- নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট (৪৩)
বোর্ড সচিব জানান, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। এর আগে শোকজ করা হলেও এবার শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নবায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।



















