ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের আরাগচির |: ফের হামলা হলে ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়ার ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯ হাজার কমল প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ, সতর্ক প্রশাসন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় উল্লম্ফন ঢাকায় ভবন রং করার সময় রশি ছিঁড়ে প্রাণ হারালেন যুবক ডনের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর: সালমান শাহ মৃত্যুর ঘটনা মামলা নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

  • আপডেট সময় : ০১:০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন থামানো এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা ও প্রস্তাবের বিষয়টি ইসরায়েলি গণমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের একটি প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বিষয়টি এখনও স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের এক প্রতিবেদনে উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত অর্থের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের আকস্মিক তেহরান সফরের সময় এই প্রস্তাবটি আলোচনা করা হয়। ওই সময় সামরিক পরিবহন বিমানে করে বিপুল এই অর্থ বহন করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবিটির কোনো নিরপেক্ষ নিশ্চয়তা মেলেনি। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমন, সংলাপের পরিবেশ তৈরি ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করা। এতে কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকেও সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

তেহরানের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে সংঘাত কমানোর চেষ্টায় সচেষ্ট রয়েছে।

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর হুথিদের ক্রমাগত হামলায় দেশটির অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে। এর আগে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখাসহ একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত করতে বাধ্য হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। এক সৌদি কর্মকর্তার মতে, তিন বছর আগের একটি চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই বর্তমানে সংঘাতের তীব্রতার কারণ। ওই চুক্তিতে হুথিনিয়ন্ত্রিত এলাকার অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও সরকারি কর্মচারীদের বেতনের বিনিময়ে হামলা বন্ধের শর্ত ছিল। সৌদি আরব সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ তুলে হুথিরা নতুন করে হামলা শুরু করে। এমন প্রেক্ষাপটে ১০০ কোটি ডলারের এই প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। হামলার জেরে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কয়েক দিন বন্ধ রাখতে হয় এবং একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলনও স্থগিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েল হায়োমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক সৌদি কর্মকর্তা বলেন, তিন বছর আগে হওয়া একটি চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণেই সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না এবং তা সংঘাত নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

আপডেট সময় : ০১:০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন থামানো এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা ও প্রস্তাবের বিষয়টি ইসরায়েলি গণমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের একটি প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বিষয়টি এখনও স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের এক প্রতিবেদনে উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত অর্থের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের আকস্মিক তেহরান সফরের সময় এই প্রস্তাবটি আলোচনা করা হয়। ওই সময় সামরিক পরিবহন বিমানে করে বিপুল এই অর্থ বহন করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবিটির কোনো নিরপেক্ষ নিশ্চয়তা মেলেনি। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমন, সংলাপের পরিবেশ তৈরি ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করা। এতে কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকেও সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

তেহরানের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে সংঘাত কমানোর চেষ্টায় সচেষ্ট রয়েছে।

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর হুথিদের ক্রমাগত হামলায় দেশটির অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে। এর আগে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখাসহ একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত করতে বাধ্য হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। এক সৌদি কর্মকর্তার মতে, তিন বছর আগের একটি চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই বর্তমানে সংঘাতের তীব্রতার কারণ। ওই চুক্তিতে হুথিনিয়ন্ত্রিত এলাকার অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও সরকারি কর্মচারীদের বেতনের বিনিময়ে হামলা বন্ধের শর্ত ছিল। সৌদি আরব সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ তুলে হুথিরা নতুন করে হামলা শুরু করে। এমন প্রেক্ষাপটে ১০০ কোটি ডলারের এই প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। হামলার জেরে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কয়েক দিন বন্ধ রাখতে হয় এবং একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলনও স্থগিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েল হায়োমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক সৌদি কর্মকর্তা বলেন, তিন বছর আগে হওয়া একটি চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণেই সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না এবং তা সংঘাত নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।