অ্যাজমা বা হাঁপানি কি, কেন? সুস্থ থাকতে করনীয়?
- আপডেট সময় : ০৮:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জুন ২০১৭
- / 1594
ডা: মো: মামুনুর রশিদঃ ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ আছে। অ্যাজমা একটি যার মানে হলো হাঁপানি রোগ। কিন্তু হাঁপানি যে শুধু অ্যাজমার কারণেই হয়, সেটি নয়। এর মধ্যে সিওপিডি আছে, নিউমোনিয়া আছে ইত্যাদি। অ্যাজমা বা হাঁপানি হলো শ্বাসনালির প্রদাহজনিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ।
অ্যাজমা বা হাঁপানি কেন হয় এবং সুস্থ থাকতে এ থেকে করনীয়ঃ
# অ্যাজমা কি?
ইহা শ্বাসনালীর একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহজনিত সমস্যা। যার ফলে শ্বাসনালী অতিরিক্ত সংবেদনশীল ও সরু হয়ে যায়। ফলে রোগী কাঁশি, সাই সাই শব্দ, শ্বাসকষ্ট ও বুকে চাপ বোধ করে।
# অ্যাজমা কেন হয়?
ইহা এলার্জিঘটিত একটি রোগ। ইহার সহিত নাকের এলার্জি, চোখের এলার্জির একটি শক্ত সংযোগ বিদ্যমান।
অ্যাজমার জন্য দায়ী পদার্থ (এলার্জন) রোগীর শ্বাসনালী বা দেহে প্রবেশের পর উক্ত পদার্থটি আইজিই যুক্ত মাস্ট সেল কর্তৃক সনাক্ত হয়। উক্ত মা স্ট সেল হিস্টামিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক মেডিয়েটর নিঃসরন করে। পদার্থের কার্যকরণের ফলে শ্বাসনালীতে প্রদাহ হয়। ফলে উক্ত শ্বাসনালীটি সরু হয়ে পড়ে, যা উহা মধ্য দিয়ে বায়ু প্রবাহে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
# অ্যাজমা রোগীদের উপসর্গ কি কি হয়?
প্রধান উপসর্গগুলো হল ;
- কাঁশি হওয়া.
- সাঁই সাঁই শব্দ হওয়া.
- শ্বাসকষ্ট হওয়া.
- বুক চাপ লাগা.
#মারাত্মক অবস্থা :
- শ্বাস দ্রুত.
- কথা বলতে না পারা.
- বুক না নড়া.
- মানসিক অবসাদ্গ্রস্থতা.
- খিচুনী, জ্ঞান হারানো.
- রক্ত চাপ হ্রাস পাওয়া.
# অ্যাজমার ট্রিগার ফ্যাক্টর বা ঘনায়নকারী উপাদানগুলো কি কি?
- এলার্জেন, পোলেন, ডাস্ট মাইট, পোষা প্রাণীর পশম
- বায়ু দূষণ
- ধূমপান
- শ্বাসনালীর প্রদাহ
- ঠান্ডা বাতাস/খাবার
- সুগন্ধী/গন্ধ
- দুশ্চিন্তা/মানসিক চাপ
- শরীর চর্চা
- হাসা-কান্না-গান গাওয়া
- এসিডিটি/হার্ট বার্ন

# ঠান্ডার সহিত অ্যাজমার সম্পর্ক কি?
ঠান্ডা একটি ভাইরাসঘটিত রোগ। ঠান্ডার ভাইরাস সাধারণতঃ নাক ও গলায় আক্রমণ করে, যার ফলে রোগীর গলা ব্যাথা, হাঁচি, সর্দি ও জ্বর হয়। ইহাতে কাঁশিও হতে পারে, যাহা সাধারণত হলুদ বা শ্রেষাযুক্ত কথাযুক্ত হয়। ইহা সাধারণতঃ সাত দিনের বেশি স্থায়ী হয় না।
তবে ঠান্ডার কারণে অ্যাজমা রোগীর অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে। তাই অ্যাজমা ও ঠান্ডা পৃথকীকরণ ও রোগ নির্ণয়ে সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন।
# রোগ সনাক্তকরণের উপায় কি?
সাধারণতঃ রোগীর রোগের বৃত্তান্ত ও সামান্য শারীরিক পরীক্ষাতেই অ্যাজমা সনাক্ত করা সম্ভব।
- রোগটি দীর্ঘ মেয়াদী, পুনরাক্রান্ত হয়
- ফুসফুসে সাঁই সাঁই শব্দ সহজেই সনাক্ত করা যায়
- সাধারনত এলার্জির ইতিহাস থাকে। পারিবারিক ইতিহাসেরও বিদ্যমান থাকে।
তবে কখনও কখনও নিচের পরীক্ষা প্রয়োজনীয় –
- বুকের এক্স-রে
- রক্তে ইমিউনোগ্লবিউলিন ই এর মাত্রা
- স্পাইরোমেট্রি/পিক ফ্লো মিটার
- ব্রংকোস্কপি
- ব্রংকো প্রোভোকেশন টেস্ট
# চিকিৎসা : ইনহেলার একটি প্রাথমিক চিকিৎসা উপকরণ
- উপসমকারী ঔষধ। সালবিউটামল, ইপ্রাট্রোপিয়াম ও এমাইনোফাইলিন জাতীয় ঔষধ
- বাধাদানকারী : সালমেটেবল, ট্রাযোট্রাপিয়াম
- নিরাময়দানকারী ঔষধ : স্টেরয়েড জাতীয় (প্রদায় নিরাময়কারী)।
#অ্যাজমা কিভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব?
- এলার্জেন পরিহার করা
- বাসায় ধূলা জমতে না দেয়া
- বাসা শুষ্ক ও ঠান্ডা রাখা
অ্যাজমা সম্পর্কে কতিপয় ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত। সঠিক তথ্য হলো –
- ইনহেলার শেষ চিকিৎসা নয়। প্রাথমিক অবস্থাতে ইনহেলার ব্যবহারে অ্যাজমা পুরোপুরি ভাল করা সম্ভব।
- ইহা কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। যে পরিবারে বংশক্রমিকভাবে অ্যাজমা হতে পারে।
- অ্যাজমা অবশ্যই নিরাময় যোগ্য।
- অ্যাজমা রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করে স্বাভাবিক জীবন-যাপন ও কাজকর্ম করতে পারে। এমনকি মহিলাদের সন্তান গ্রহণেও কোন সমস্যা হয় না।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

























