সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় ২ পুলিশ চিহ্নিত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকতাসহ দুই জন সম্পৃক্ত। তারা হলেন- এস আই মাহবুবুর রহমান ও কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণ দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির দাখিল করা প্রতিবেদনে একথা বলা হয়।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় গাইবান্ধার পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জের চামগাড়ীতে দায়িত্বরত সকল পুলিশ সদস্যকেও প্রত্যাহার করতে বলা হয়। এই আদেশও বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ৩০ জানুয়ারি গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত মর্মে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে ৬৫ পৃষ্টার এই প্রতিবেদন দাখিল করেন গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং উক্ত ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। এই আগুন লাগানোর ঘটনার সাথে ২ জন পুলিশ সদস্য ও ১ জন ডিবি সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সাঁওতালপল্লিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত ও কয়েকজন সাঁওতাল নিহত হন।