ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এআই দিয়ে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানোকে অপরাধ বললেন শাহজালালে ৪ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক আটক অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার বেশি তথ্য ফাঁসকারীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত: ট্রাম্প মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজে জড়িত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ৪ জেলে কারাগারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার সৌদিতে কঠোর বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী ইরানে জিবিইউ-৪৩/বি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর মোজাম্বিক থেকে দেশে ফিরল প্রবাসী জসিমের মৃত অবস্থায় পাওয়া

অনশন ভাঙলেন শাবি শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২
  • / 349
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ভিসি’র পদত্যাগসহ নানা দাবিতে টানা আট দিনের অনশন ভাঙলেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে পানি পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

এর আগে হাসপাতালে ভর্তি অনশনরত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।

অনশন ভাঙলেও ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একজন নাফিসা আঞ্জুম ইমু।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে ঢাকা থেকে জাফর স্যার (মুহম্মদ জাফর ইকবাল) এসে বলার পর, স্যারের কথা আমরা কেউ ফেলতে পারিনি। স্যারের কথা তো আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করি, ভরসা করি। স্যারের কথায় সবাই আশ্বস্ত হয়েছে যে, অনশন ভাঙবে।’

খবরে জানা যাচ্ছে, বুধবার ভোররাতে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছান জাফর ইকবাল। তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় তার সাথে ছিলেন স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক। তিনিও চাকরি থেকে অবসরে গেছেন।

নাফিসা আঞ্জুম ইমু বলেন, ‘অনশনকারীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সবাই একসঙ্গে অনশন করতে শুরু করেছিলেন, তাই অনশনও একসঙ্গে ভাঙ্গবেন। এই কারণে হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তারাও ক্যাম্পাসে আসবেন। তারপর সবাই মিলে অনশন ভাঙবেন।’

জাফর ইকবাল আন্দোলনকারীদের কী বলেছেন?

ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে প্রফেসর ইকবাল যেসব কথা বলেন, তার ভিডিও বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রফেসর ইকবালকে বলতে দেখা যায়, ‘তোমরা যেটা করেছো, সেটার কোনো তুলনা নাই। যে আন্দোলনটা করেছো, বাংলাদেশের প্রতিটা ইয়াং ছেলেপেলে তোমাদের সঙ্গে আছে।’

পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথেও কথা বলেন প্রফেসর ইকবাল। পুলিশের আইজিপির সঙ্গে তার পরিচয় আছে জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে ওনাকে বলতে চাই, আপনারা এটা করবেন না। প্লিজ বাংলাদেশে যত বড় কিছু হয়েছে সব ছাত্ররা করেছে। ছাত্রদের বিশ্বাস করেন, আর যাই করুন, পুলিশ দিয়ে ছাত্রদের পিটাবেন না। যা করেছেন সেটা অনেক বড় সর্বনাশ হয়েছে।’

‘আমার ছাত্ররা গুলি করেছে, একটা ছবি দেখান। সবার কাছে তো স্মার্টফোন থাকে।’ তিনি বলছেন।

‘তোমরা টের পাচ্ছ না তোমরা কী করেছো? বাংলাদেশের ৩৪টা ইউনিভার্সিটির ৩৪ জন ভাইস চ্যান্সেলর বলেছেন, এই ভিসি যদি পদত্যাগ করে, তাহলে তারাও পদত্যাগ করবেন। আমার খুবই শখ, জিনিসটা দেখতে, আমার দেশে এমন ভাইস চ্যান্সেলর আছেন, যারা অন্যের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে নিজেরা পদত্যাগ করবেন। কিন্তু আমার ধারণা, সেই শখ সহজে মিটবে না। কিন্তু কি জন্য তারা বলেছেন? কারণ তাদের ঘুম নষ্ট হয়ে গেছে।’

সেই সময় তিনি ছাত্রদের ১০ হাজার টাকা দিয়ে বলেন, ‘আমি দেখতে চাই, সিআইডি এসে এখন আমাকেও গ্রেফতার করুক।’

মঙ্গলবারই পুলিশ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক করে আন্দোলনকারীদের অর্থ সহায়তা দেয়ার অভিযোগে।

যেভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত

গত বুধবার বেলা ৩টা থেকে ভিসি’র বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রীদের একটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রভোস্টের দুর্ব্যবহার এবং হলে বিছানা সঙ্কট ও খাওয়ার সমস্যা সমাধানের দাবিতে দিন দশেক আগে শুধু ওই হলের ছাত্রীদের যে আন্দোলন শুরু হয় তা দুই দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়।

ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে।

গত ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের পিটুনি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটার পর থেকে আন্দোলন জোরদার হয়। উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি।

আন্দোলন সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলো ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সেটিও মেনে নেয়নি শিক্ষার্থীরা।

এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ভিসিসহ বেশ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

এসব ব্যাপারে ভিসি’র কোনো বক্তব্য অবশ্য পাওয়া যায়নি।

তবে ভিসি’র পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ‘অযৌক্তিক’ বর্ণনা করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, এমন দাবি সম্পর্কে রাষ্ট্রের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অনশন ভাঙলেন শাবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

ভিসি’র পদত্যাগসহ নানা দাবিতে টানা আট দিনের অনশন ভাঙলেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে পানি পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

এর আগে হাসপাতালে ভর্তি অনশনরত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।

অনশন ভাঙলেও ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একজন নাফিসা আঞ্জুম ইমু।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে ঢাকা থেকে জাফর স্যার (মুহম্মদ জাফর ইকবাল) এসে বলার পর, স্যারের কথা আমরা কেউ ফেলতে পারিনি। স্যারের কথা তো আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করি, ভরসা করি। স্যারের কথায় সবাই আশ্বস্ত হয়েছে যে, অনশন ভাঙবে।’

খবরে জানা যাচ্ছে, বুধবার ভোররাতে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছান জাফর ইকবাল। তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় তার সাথে ছিলেন স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক। তিনিও চাকরি থেকে অবসরে গেছেন।

নাফিসা আঞ্জুম ইমু বলেন, ‘অনশনকারীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সবাই একসঙ্গে অনশন করতে শুরু করেছিলেন, তাই অনশনও একসঙ্গে ভাঙ্গবেন। এই কারণে হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তারাও ক্যাম্পাসে আসবেন। তারপর সবাই মিলে অনশন ভাঙবেন।’

জাফর ইকবাল আন্দোলনকারীদের কী বলেছেন?

ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে প্রফেসর ইকবাল যেসব কথা বলেন, তার ভিডিও বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রফেসর ইকবালকে বলতে দেখা যায়, ‘তোমরা যেটা করেছো, সেটার কোনো তুলনা নাই। যে আন্দোলনটা করেছো, বাংলাদেশের প্রতিটা ইয়াং ছেলেপেলে তোমাদের সঙ্গে আছে।’

পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথেও কথা বলেন প্রফেসর ইকবাল। পুলিশের আইজিপির সঙ্গে তার পরিচয় আছে জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে ওনাকে বলতে চাই, আপনারা এটা করবেন না। প্লিজ বাংলাদেশে যত বড় কিছু হয়েছে সব ছাত্ররা করেছে। ছাত্রদের বিশ্বাস করেন, আর যাই করুন, পুলিশ দিয়ে ছাত্রদের পিটাবেন না। যা করেছেন সেটা অনেক বড় সর্বনাশ হয়েছে।’

‘আমার ছাত্ররা গুলি করেছে, একটা ছবি দেখান। সবার কাছে তো স্মার্টফোন থাকে।’ তিনি বলছেন।

‘তোমরা টের পাচ্ছ না তোমরা কী করেছো? বাংলাদেশের ৩৪টা ইউনিভার্সিটির ৩৪ জন ভাইস চ্যান্সেলর বলেছেন, এই ভিসি যদি পদত্যাগ করে, তাহলে তারাও পদত্যাগ করবেন। আমার খুবই শখ, জিনিসটা দেখতে, আমার দেশে এমন ভাইস চ্যান্সেলর আছেন, যারা অন্যের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে নিজেরা পদত্যাগ করবেন। কিন্তু আমার ধারণা, সেই শখ সহজে মিটবে না। কিন্তু কি জন্য তারা বলেছেন? কারণ তাদের ঘুম নষ্ট হয়ে গেছে।’

সেই সময় তিনি ছাত্রদের ১০ হাজার টাকা দিয়ে বলেন, ‘আমি দেখতে চাই, সিআইডি এসে এখন আমাকেও গ্রেফতার করুক।’

মঙ্গলবারই পুলিশ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক করে আন্দোলনকারীদের অর্থ সহায়তা দেয়ার অভিযোগে।

যেভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত

গত বুধবার বেলা ৩টা থেকে ভিসি’র বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রীদের একটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রভোস্টের দুর্ব্যবহার এবং হলে বিছানা সঙ্কট ও খাওয়ার সমস্যা সমাধানের দাবিতে দিন দশেক আগে শুধু ওই হলের ছাত্রীদের যে আন্দোলন শুরু হয় তা দুই দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়।

ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে।

গত ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের পিটুনি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটার পর থেকে আন্দোলন জোরদার হয়। উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি।

আন্দোলন সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলো ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সেটিও মেনে নেয়নি শিক্ষার্থীরা।

এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ভিসিসহ বেশ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

এসব ব্যাপারে ভিসি’র কোনো বক্তব্য অবশ্য পাওয়া যায়নি।

তবে ভিসি’র পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ‘অযৌক্তিক’ বর্ণনা করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, এমন দাবি সম্পর্কে রাষ্ট্রের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস