ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ঢাকা থেকে ৫১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম স্বর্ণ ও মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না: শামা ওবায়েদ লালমোহনে গ্রামীণ সড়ক মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সৌদিগামী প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প ফ্লাইটের উদ্যোগ পুলিশি হেফাজতে শারীরিক নিরাপত্তা ঘটনায় অভিনেত্রী জেইন মেরির অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড চুয়েটে উপাচার্য ভবনে তালা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, অবরুদ্ধ উপাচার্য লোহাগড়ায় র‍্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে কন্যাশিশু দিবস পালিত ২৬ জানুয়ারি ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন, থাকছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড

  • আপডেট সময় : ০৪:২২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রোইকোনমিক স্থায়িত্বের মাইক্রোইকোনমিক ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কার বা স্ভেরিজেস রিকসব্যাংক প্রাইজ পেয়েছেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। রবার্ট ই. হল ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং মাইকেল উডফোর্ড নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। অর্থনীতি মূলত মন্দা ও প্রবৃদ্ধির পর্যায়ক্রমিক চক্রে পরিচালিত হয়।

রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ঘোষণা অনুযায়ী, এই দুই গবেষক নতুন ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল উদ্ভাবন করেছেন। তাদের এই মডেল কার্যকর স্থিতিশীলতা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাপী সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে। মূলত এই মডেলের ওপর ভিত্তি করে সময়োপযোগী রাজকোষীয় ও মুদ্রানীতি গ্রহণ করা সম্ভব, যা অর্থনীতির উত্থান-পতন নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস সোমবার (১২ অক্টোবর) এক ঘোষণায় জানায়, চলতি বছরের দুই বিজয়ী এমন নতুন সামষ্টিক অর্থনৈতিক (ম্যাক্রোইকোনমিক) মডেল তৈরি করেছেন, যা কার্যকর স্থিতিশীলতা নীতি বাস্তবায়নে বৈশ্বিক সক্ষমতাকে উল্ল।

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও মন্দার চক্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। জন মেনার্ড কেইনসের অর্থনৈতিক নীতি দীর্ঘদিন কার্যকর থাকলেও ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের সময় তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। সেই সময় বেকারত্ব না কমে উল্টো অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়, যার ফলে পশ্চিমা বিশ্ব উচ্চ বেকারত্ব ও চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল। রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে, কীভাবে অর্থনৈতিক মডেলগুলো নতুন করে গঠন করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তারা কেবল প্রচলিত পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তি পর্যায় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছেন।

এই নতুন মডেলের মূল ভিত্তি হলো, পরিবার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সঞ্চয় ও পণ্যের দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। নোবেল পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার বলেন, বিজয়ীদের গবেষণালব্ধ এই স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। তাদের এই উদ্ভাবনের ফলে জ্বালানি সংকট কিংবা আকস্মিক ভোগ হ্রাসের মতো বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় বিশ্ব এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড

আপডেট সময় : ০৪:২২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সামষ্টিক অর্থনীতি বা ম্যাক্রোইকোনমিক স্থায়িত্বের মাইক্রোইকোনমিক ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কার বা স্ভেরিজেস রিকসব্যাংক প্রাইজ পেয়েছেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। রবার্ট ই. হল ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং মাইকেল উডফোর্ড নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। অর্থনীতি মূলত মন্দা ও প্রবৃদ্ধির পর্যায়ক্রমিক চক্রে পরিচালিত হয়।

রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ঘোষণা অনুযায়ী, এই দুই গবেষক নতুন ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল উদ্ভাবন করেছেন। তাদের এই মডেল কার্যকর স্থিতিশীলতা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাপী সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে। মূলত এই মডেলের ওপর ভিত্তি করে সময়োপযোগী রাজকোষীয় ও মুদ্রানীতি গ্রহণ করা সম্ভব, যা অর্থনীতির উত্থান-পতন নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস সোমবার (১২ অক্টোবর) এক ঘোষণায় জানায়, চলতি বছরের দুই বিজয়ী এমন নতুন সামষ্টিক অর্থনৈতিক (ম্যাক্রোইকোনমিক) মডেল তৈরি করেছেন, যা কার্যকর স্থিতিশীলতা নীতি বাস্তবায়নে বৈশ্বিক সক্ষমতাকে উল্ল।

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও মন্দার চক্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। জন মেনার্ড কেইনসের অর্থনৈতিক নীতি দীর্ঘদিন কার্যকর থাকলেও ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের সময় তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। সেই সময় বেকারত্ব না কমে উল্টো অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়, যার ফলে পশ্চিমা বিশ্ব উচ্চ বেকারত্ব ও চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল। রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে, কীভাবে অর্থনৈতিক মডেলগুলো নতুন করে গঠন করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তারা কেবল প্রচলিত পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তি পর্যায় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছেন।

এই নতুন মডেলের মূল ভিত্তি হলো, পরিবার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সঞ্চয় ও পণ্যের দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। নোবেল পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার বলেন, বিজয়ীদের গবেষণালব্ধ এই স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। তাদের এই উদ্ভাবনের ফলে জ্বালানি সংকট কিংবা আকস্মিক ভোগ হ্রাসের মতো বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় বিশ্ব এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।