ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের

আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রশ্ন

  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
  • / 144
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট

সাড়ে তিনমাস ধরে সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবি জানালেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের এত অবজ্ঞা কেন করা হচ্ছে, সে প্রশ্নও করেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় প্রত্যয় স্কিম বাতিলসহ ৩ দফা কর্মসূচিতে আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়াসহ একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, সাড়ে তিনমাস ধরে আমরা আন্দোলন করছি। পর্যায়ক্রমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি, সংবাদ সম্মেলন করেছি, স্বাক্ষর নিয়েছি। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আপনারা তখন কোথায় ছিলেন? ১ জুলাই যখনই আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে গেলাম, আপনাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এলো। আপনারা এত অবজ্ঞা করেন আমাদের? আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারতেন না? আলোচনায় আমাদের স্টেকহোল্ডারদের রাখতে পারতেন না?

তিনি বলেন, একটি দুষ্টচক্র ২০১৫ সালে আমাদের বেতন স্কেলের জন্য রাস্তায় নামিয়েছিল। সে চক্রটি আমাদের ওপর প্রত্যয় স্কিম চাপিয়ে দিয়েছে। এই চক্রটি ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছিল। এখনো একইভাবে ভুল বোঝাচ্ছে। তারা টক-শো’য় বলছে, আমরা প্রত্যয় স্কিমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। অথচ, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী যে চারটি স্কিম চালু করেছিলেন, আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম।

নিজামুল হক ভূইয়া আরও বলেন, এই যে প্রত্যয় স্কিম উনারা করেছেন। উনারাই কি সব বিশেষজ্ঞ? অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি উনারা জানেন? বিজ্ঞান উনারা জানেন? আমাদের অর্থনীতিবিদরা অনেক বেশি সমৃদ্ধ। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের অর্থনীতির, গণিতের শিক্ষকরা ছিলেন; যারা তাদের অংক করে পেনশন স্কিম বুঝিয়ে দিতে পারতেন। তা না করে তারা মনগড়া জিনিস দিয়ে শিক্ষকদের বিভ্রান্ত করছেন। আমরা সবসময় বলেছি, আমরা শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা চাই। আমরা ডাল-ভাত খেয়ে চলতে চাই। আমরা আপনাদের মতো বিরাট জীবন যাপন করতে চাই না। আপনারা নিয়োগ হওয়ার তিনদিন পরেই সরকার থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিদেশ ঘুরে আসেন। আমরা শিক্ষকরা তো সেটা করছি না।

এ সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে আন্দোলনে চলবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে যুক্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বিডিসংবাদ/আতে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৬:২১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪


ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট

সাড়ে তিনমাস ধরে সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবি জানালেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের এত অবজ্ঞা কেন করা হচ্ছে, সে প্রশ্নও করেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় প্রত্যয় স্কিম বাতিলসহ ৩ দফা কর্মসূচিতে আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়াসহ একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, সাড়ে তিনমাস ধরে আমরা আন্দোলন করছি। পর্যায়ক্রমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি, সংবাদ সম্মেলন করেছি, স্বাক্ষর নিয়েছি। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আপনারা তখন কোথায় ছিলেন? ১ জুলাই যখনই আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে গেলাম, আপনাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এলো। আপনারা এত অবজ্ঞা করেন আমাদের? আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারতেন না? আলোচনায় আমাদের স্টেকহোল্ডারদের রাখতে পারতেন না?

তিনি বলেন, একটি দুষ্টচক্র ২০১৫ সালে আমাদের বেতন স্কেলের জন্য রাস্তায় নামিয়েছিল। সে চক্রটি আমাদের ওপর প্রত্যয় স্কিম চাপিয়ে দিয়েছে। এই চক্রটি ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছিল। এখনো একইভাবে ভুল বোঝাচ্ছে। তারা টক-শো’য় বলছে, আমরা প্রত্যয় স্কিমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। অথচ, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী যে চারটি স্কিম চালু করেছিলেন, আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম।

নিজামুল হক ভূইয়া আরও বলেন, এই যে প্রত্যয় স্কিম উনারা করেছেন। উনারাই কি সব বিশেষজ্ঞ? অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি উনারা জানেন? বিজ্ঞান উনারা জানেন? আমাদের অর্থনীতিবিদরা অনেক বেশি সমৃদ্ধ। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের অর্থনীতির, গণিতের শিক্ষকরা ছিলেন; যারা তাদের অংক করে পেনশন স্কিম বুঝিয়ে দিতে পারতেন। তা না করে তারা মনগড়া জিনিস দিয়ে শিক্ষকদের বিভ্রান্ত করছেন। আমরা সবসময় বলেছি, আমরা শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা চাই। আমরা ডাল-ভাত খেয়ে চলতে চাই। আমরা আপনাদের মতো বিরাট জীবন যাপন করতে চাই না। আপনারা নিয়োগ হওয়ার তিনদিন পরেই সরকার থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিদেশ ঘুরে আসেন। আমরা শিক্ষকরা তো সেটা করছি না।

এ সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে আন্দোলনে চলবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে যুক্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বিডিসংবাদ/আতে