ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আন্দোলনের মুখে বেতন-ভাতা পরিশোধে বাধ্য হলেন চুয়েট ভিসি

  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা আটকে দিয়েছিলেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে শেষ পর্যন্ত বুধবার শিক্ষক ও কর্মীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে তিনি সেই বেতন পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রীয়তোষ চক্রবর্তী। তিনি জানান, বুধবার দুপুরের মধ্যেই সবাই তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুয়েট ক্যাম্পাসের সোনালী ব্যাংক শাখায় চিঠি পাঠিয়ে উপাচার্য বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা এবং ৫১২ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। টানা ১৬ দিন ধরে চলা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানানোর কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যাপক শরীফুল আলম এই পদক্ষেপ নেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার ঠিক আগে বেতন বন্ধ হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক ও কর্মীরা চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন।

উপাচার্যের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার সকালে শিক্ষক ও কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে সোনালী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন, পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরবেন না। আলোচনার এক পর্যায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বেতন ছাড় করতে রাজি হয়। কর্মচারী সমিতির নেতা প্রীয়তোষ চক্রবর্তী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা উত্তোলনের জন্য উপাচার্যের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই; এটি অ্যাকাউন্টস কন্ট্রোলার ও ডেপুটি অ্যাকাউন্টস কন্ট্রোলারের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।

এর আগে উপাচার্য সোনালী ব্যাংককে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন, চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩ (৭) অনুযায়ী তার পূর্বানুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন অবৈধ। ব্যাংক যদি এই বিল ছাড় করে, তবে তাদের বেআইনি কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দায়ী করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি তিনি অবাধ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন।

এই যুক্তির বিপরীতে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন ও বোনাস ছাড়ের জন্য উপাচার্যের স্বাক্ষরের কোনো প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপ-হিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে নিয়মিত বেতন ছাড় করা হয়। এ মাসের বেতনও তারা সেভাবেই জমা দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাপে ফেলার জন্যই উপাচার্য এই সংকট সৃষ্টি করেছেন। অতীতে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্দোলনের মুখে বেতন-ভাতা পরিশোধে বাধ্য হলেন চুয়েট ভিসি

আপডেট সময় : ০৩:০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা আটকে দিয়েছিলেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে শেষ পর্যন্ত বুধবার শিক্ষক ও কর্মীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে তিনি সেই বেতন পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রীয়তোষ চক্রবর্তী। তিনি জানান, বুধবার দুপুরের মধ্যেই সবাই তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুয়েট ক্যাম্পাসের সোনালী ব্যাংক শাখায় চিঠি পাঠিয়ে উপাচার্য বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা এবং ৫১২ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। টানা ১৬ দিন ধরে চলা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানানোর কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যাপক শরীফুল আলম এই পদক্ষেপ নেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার ঠিক আগে বেতন বন্ধ হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক ও কর্মীরা চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন।

উপাচার্যের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার সকালে শিক্ষক ও কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে সোনালী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন, পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরবেন না। আলোচনার এক পর্যায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বেতন ছাড় করতে রাজি হয়। কর্মচারী সমিতির নেতা প্রীয়তোষ চক্রবর্তী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা উত্তোলনের জন্য উপাচার্যের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই; এটি অ্যাকাউন্টস কন্ট্রোলার ও ডেপুটি অ্যাকাউন্টস কন্ট্রোলারের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।

এর আগে উপাচার্য সোনালী ব্যাংককে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন, চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩ (৭) অনুযায়ী তার পূর্বানুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন অবৈধ। ব্যাংক যদি এই বিল ছাড় করে, তবে তাদের বেআইনি কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দায়ী করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি তিনি অবাধ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন।

এই যুক্তির বিপরীতে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন ও বোনাস ছাড়ের জন্য উপাচার্যের স্বাক্ষরের কোনো প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপ-হিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে নিয়মিত বেতন ছাড় করা হয়। এ মাসের বেতনও তারা সেভাবেই জমা দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাপে ফেলার জন্যই উপাচার্য এই সংকট সৃষ্টি করেছেন। অতীতে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।