আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৯:৪০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। বুধবার বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কর্মকাণ্ড চলছে, তা কি সত্যিই শ্রমিকদের আন্দোলন নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বা সহিংসতা—সেটি নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কিছু ব্যক্তি অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতায় লিপ্ত রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি ছিলেন এমন কিছু শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতাও এই অস্থিরতায় সামনে এসেছে। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি ও মাফিয়া চক্রের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে। সরকার বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মজুরি বোর্ডের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বর্তমানে এই বোর্ডের কার্যক্রম চলছে। প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক এবং তিনি নিজেই মজুরি নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। শ্রমিকবান্ধব সরকার রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বদ্ধপরিকর। সরকারের উদ্দেশ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ধৈর্যের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাহিনীর অনেক সদস্য হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের গায়ে হাত তোলা থেকে বিরত থাকা হয়েছে। কারণ, শ্রমিকদের একটি অংশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এরপরও তারা যথাসম্ভব শ্রমিকদের গায়ে হাত দেননি।
শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি ঘোষণা করার কাজ করছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, তবে তার আগেই ঘোষণা করা সম্ভব হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অযৌক্তিক আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের দাবি ছিল আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নতুন করে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা। সরকার যথেষ্ট আগেই এ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে বিলম্ব হয়েছে।























