ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে সরকার, জানালেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সেন্টমার্টিনের পথে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করল পর্যটকবাহী ৩টি জাহাজ অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের মাটিতে প্রথম ফাইফার, ইতিহাস গড়ে উচ্ছ্বসিত হাসান মাহমুদ রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বাড়ল কেজিতে ১৫ টাকা দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ থমাস ডুলি ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মুখ খুললেন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি নরেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ

‘আমরা শুধু আগুন নিয়ন্ত্রণ করি না, জীবনও দেই’

  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩
  • / 153
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটের ভয়াবহ আগুন অনেকটাই নিভে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, সকালে আগুন লাগার পর এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তবে বাতাসের থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা যখন আগুণ নিয়ন্ত্রেণে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক তখনই তাদের সদর দফতরে হামলা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতর বঙ্গবাজারের কাছেই।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক অভিযোগ করেছেন যে বঙ্গবাজারে ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরে ঢুকে ‘জনগণ’ হামলা চালিয়েছে।

এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুধু আগুন নিয়ন্ত্রণ করি না, আমরা জীবন দেই জনগণের জন্য। আজ সদর দফতরে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমার হেডকোয়ার্টারে যে নতুন ভবন হয়েছে সেখানে ঢুকে ভাঙচুর করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় নিয়ন্ত্রণে (আগুন)। আরকটু সময় লাগবে। আপনারা দেখছেন এখানে অনেক বাতাস। বাতাসের জন্য একটু সময় লাগছে। আরো ৩০ মিনিটের মধ্যে আশা করি আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১০ মিনিটে এই আগুন লাগার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক।

কিন্তু কিভাবে আগুন লেগেছে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সেখানে প্রায় চার হাজারের মতো দোকান আছে।

আগুনের ঘটনা জানার পর ঢাকা এবং আশেপাশের জেলার সবগুলো ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছে।

আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছে সেনা বাহিনীর ইউনিটও। বঙ্গবাজার এবং আশেপাশের মার্কেটগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কেট ও আশেপাশের এলাকায় ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা পানি দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এখনো পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের মোট ৫১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মোট ছয়টি দিক থেকে আগুনের ওপর পানি ছিটানো হচ্ছে।

তবে আগুনে এখনো পর্যন্ত নিহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আগুন নেভাতে হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটানো হচ্ছে। পানি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে আশেপাশের জলাশয় থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে পানি নেয়া হচ্ছে।

এছাড়া পাইপ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের পুকুর থেকে পানি নেয়ারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি যোগ দিয়েছে বিজিবি, সামরিক বাহিনী ও র‍্যাবের সদস্যরা।

বঙ্গবাজারের আশেপাশ থেকে উৎসুক মানুষের ভিড় সরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। তাদের অবস্থানের কারণে আগুন নেভানোর কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তারা।

তবে বঙ্গবাজারে যেসব ব্যবসায়ীর দোকান ছিল, তাদের অনেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন। দোকান পুড়ে যাওয়ার কারণে সব হারিয়ে কান্নাকাটি করছেন এদের অনেকেই।

বঙ্গবাজার পাইকারি ও খুচরা কাপড়ের জন্য দেশের প্রধান ও পরিচিত মার্কেটগুলোর একটি।

গত মাসের ৭ মার্চ ঢাকার সিদ্দিক বাজারে একটি বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছিলেন।

আবু জাফর নামে এক ব্যক্তি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বঙ্গবাজারে তার দু’টি দোকান আছে এবং তিনি সেখানে ২৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন।

তিনি বরেন, ‘ঈদের আগে দোকানে ৪০ লক্ষ টাকার মালামাল তুলেছিলাম। সব শেষ হয়ে গেছে।’

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেছেন, তার খালাতো ভাই, মামাতো ভাই- সবার মিলে এক শ’র বেশি দোকান আছে। এটাই তাদের আয়ের উৎস এবং তাদের পরিবার এই আয়েই চলে।

তিনি বলেন, ‘দোকান থেকে কিচ্ছু বের করতে পারি নাই। নিঃস্ব হয়ে গেলাম ভাই।’

এর আগেও বঙ্গবাজারে একাধিকবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘আমরা শুধু আগুন নিয়ন্ত্রণ করি না, জীবনও দেই’

আপডেট সময় : ০৪:০৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটের ভয়াবহ আগুন অনেকটাই নিভে গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, সকালে আগুন লাগার পর এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তবে বাতাসের থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা যখন আগুণ নিয়ন্ত্রেণে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক তখনই তাদের সদর দফতরে হামলা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতর বঙ্গবাজারের কাছেই।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক অভিযোগ করেছেন যে বঙ্গবাজারে ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরে ঢুকে ‘জনগণ’ হামলা চালিয়েছে।

এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুধু আগুন নিয়ন্ত্রণ করি না, আমরা জীবন দেই জনগণের জন্য। আজ সদর দফতরে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমার হেডকোয়ার্টারে যে নতুন ভবন হয়েছে সেখানে ঢুকে ভাঙচুর করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় নিয়ন্ত্রণে (আগুন)। আরকটু সময় লাগবে। আপনারা দেখছেন এখানে অনেক বাতাস। বাতাসের জন্য একটু সময় লাগছে। আরো ৩০ মিনিটের মধ্যে আশা করি আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১০ মিনিটে এই আগুন লাগার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক।

কিন্তু কিভাবে আগুন লেগেছে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সেখানে প্রায় চার হাজারের মতো দোকান আছে।

আগুনের ঘটনা জানার পর ঢাকা এবং আশেপাশের জেলার সবগুলো ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছে।

আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছে সেনা বাহিনীর ইউনিটও। বঙ্গবাজার এবং আশেপাশের মার্কেটগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কেট ও আশেপাশের এলাকায় ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা পানি দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এখনো পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের মোট ৫১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মোট ছয়টি দিক থেকে আগুনের ওপর পানি ছিটানো হচ্ছে।

তবে আগুনে এখনো পর্যন্ত নিহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আগুন নেভাতে হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটানো হচ্ছে। পানি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে আশেপাশের জলাশয় থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে পানি নেয়া হচ্ছে।

এছাড়া পাইপ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের পুকুর থেকে পানি নেয়ারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি যোগ দিয়েছে বিজিবি, সামরিক বাহিনী ও র‍্যাবের সদস্যরা।

বঙ্গবাজারের আশেপাশ থেকে উৎসুক মানুষের ভিড় সরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। তাদের অবস্থানের কারণে আগুন নেভানোর কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তারা।

তবে বঙ্গবাজারে যেসব ব্যবসায়ীর দোকান ছিল, তাদের অনেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন। দোকান পুড়ে যাওয়ার কারণে সব হারিয়ে কান্নাকাটি করছেন এদের অনেকেই।

বঙ্গবাজার পাইকারি ও খুচরা কাপড়ের জন্য দেশের প্রধান ও পরিচিত মার্কেটগুলোর একটি।

গত মাসের ৭ মার্চ ঢাকার সিদ্দিক বাজারে একটি বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছিলেন।

আবু জাফর নামে এক ব্যক্তি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বঙ্গবাজারে তার দু’টি দোকান আছে এবং তিনি সেখানে ২৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন।

তিনি বরেন, ‘ঈদের আগে দোকানে ৪০ লক্ষ টাকার মালামাল তুলেছিলাম। সব শেষ হয়ে গেছে।’

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেছেন, তার খালাতো ভাই, মামাতো ভাই- সবার মিলে এক শ’র বেশি দোকান আছে। এটাই তাদের আয়ের উৎস এবং তাদের পরিবার এই আয়েই চলে।

তিনি বলেন, ‘দোকান থেকে কিচ্ছু বের করতে পারি নাই। নিঃস্ব হয়ে গেলাম ভাই।’

এর আগেও বঙ্গবাজারে একাধিকবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস