ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইরাক থেকে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার: নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন ড. খলিলুর রহমান জর্জিয়া বিএনপিতে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ও আসন্ন নির্বাচন: অন্তর্দ্বন্দ্ব নিরসন ও দলীয় স্বার্থে ঐক্যের ডাক ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ: মাদারীপুরে অভিযুক্তের বাড়ি জনশূন্য, নিরাপত্তা জোরদার ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ডাক পেলেন মিরাজ, পূরণ হবে ৯ বছরের আক্ষেপ বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতেই আছেন, ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত ২০২৬-৩১ অর্থবছরের মধ্যে সব মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও আগ্নেয়গিরির ছাই: আরব আমিরাতের ফ্লাইটে বড় ধরনের বিঘ্ন দুই যুগ আগের মামলায় ১০৪ বছর বয়সে কারাগারে বৃদ্ধ

ইরাক থেকে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার: নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় যে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক জোটের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।

এই প্রত্যাহারের আওতায় কুর্দি অঞ্চলে মোতায়েন থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্লোজ-ইন রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা সি-র‍্যাম। বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবস্থাগুলো ইরাকে মার্কিন ও জোটের ঘাঁটি এবং এরবিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। এছাড়া সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বিমান পরিচালনা অবকাঠামোর নিরাপত্তায় এগুলোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যকার একটি চুক্তির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই চুক্তিতে আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক অভিযানের সময়সীমা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর জোটের ভূমিকা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান থেকে সরিয়ে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার ফলে ইরাকের নিজস্ব সীমিত বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে ইরাকের আকাশসীমা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চলাচলের একটি করিডোর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মান আল-জুবুরির মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চলে যাওয়ার পর ইরাকের আকাশসীমা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং যেকোনো পক্ষের জন্য অনুপ্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে ইরাক নিজস্ব সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে রাডার, কমান্ড অবকাঠামো এবং বিভিন্ন পাল্লার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইরাকি সামরিক বাহিনী প্রথমে ছয় বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা করলেও প্রধানমন্ত্রী তা কমিয়ে তিন বছরে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু অস্ত্র কেনাই যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনবল, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। ফলে মার্কিন ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পর তৈরি হওয়া এই নিরাপত্তা শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা ইরাকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরাক থেকে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার: নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় যে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক জোটের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।

এই প্রত্যাহারের আওতায় কুর্দি অঞ্চলে মোতায়েন থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্লোজ-ইন রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা সি-র‍্যাম। বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবস্থাগুলো ইরাকে মার্কিন ও জোটের ঘাঁটি এবং এরবিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। এছাড়া সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বিমান পরিচালনা অবকাঠামোর নিরাপত্তায় এগুলোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যকার একটি চুক্তির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই চুক্তিতে আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক অভিযানের সময়সীমা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর জোটের ভূমিকা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান থেকে সরিয়ে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার ফলে ইরাকের নিজস্ব সীমিত বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে ইরাকের আকাশসীমা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চলাচলের একটি করিডোর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মান আল-জুবুরির মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চলে যাওয়ার পর ইরাকের আকাশসীমা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং যেকোনো পক্ষের জন্য অনুপ্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে ইরাক নিজস্ব সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে রাডার, কমান্ড অবকাঠামো এবং বিভিন্ন পাল্লার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইরাকি সামরিক বাহিনী প্রথমে ছয় বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা করলেও প্রধানমন্ত্রী তা কমিয়ে তিন বছরে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু অস্ত্র কেনাই যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনবল, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। ফলে মার্কিন ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পর তৈরি হওয়া এই নিরাপত্তা শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা ইরাকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।