মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ০৭:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 20
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো ইরানে তৈরি নতুন একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী জানিয়েছেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয় এবং এর প্রভাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ওই এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। তবে ঠিক কোন জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছিল বা পরীক্ষাটি কোথায় চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী দাবি করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল। তবে ইরানের এই দাবির সত্যতা যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সরাসরি এই নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা তারা সফলভাবে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
পালটা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন বাহিনী তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ অচল করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। এই ঘটনার পর হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। মোহসেন রেজায়ী আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান খুব শীঘ্রই হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ বা সীমিত’ নৌ চলাচল অঞ্চল ঘোষণা করতে যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ নিয়ে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি অভিযোগ করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও উপাদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রবেশাধিকার প্রদানে গড়িমসি করছে।
তেহরান অবশ্য এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিবেচনায় না নিয়ে পরিদর্শন পুনরায় চালুর দাবি অযৌক্তিক। বাঘাই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব পাস হলে ইরান প্রয়োজনীয় পালটা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের তেল রপ্তানি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি—এই তিন ইস্যুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। তবে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবিটি কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে কি না, বা এতে কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আপাতত ঘটনাটি ইরানের পক্ষ থেকে করা একটি সামরিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।





















