ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ব্যয় ৬০ লাখ ডলার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের দাদির মৃত্যুর আগেই অভিজিৎ বলেছিলেন: পরিবারের কষ্টই বেশি সিনিয়র সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ: সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান, মানসিক সুস্থতায় প্রয়োজন সহমর্মিতা ও কার্যকর উদ্যোগ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে গণগ্রেফতার হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলার তদন্তে আত্মঘাতী পরিকল্পনার তথ্য আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হিফজ বিভাগে প্রথম বাংলাদেশের হিরা আহত শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার খরচ বহন করবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী

কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ব্যয় ৬০ লাখ ডলার

  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বাধ্যবাধকতা পূরণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই সংস্থাটি কার্বন নিঃসরণ কমানোর নিয়ম মেনে চলতে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। আদ্দিস আবাবায় আয়োজিত পূর্ব আফ্রিকান সম্প্রদায়ের চতুর্থ অভ্যন্তরীণ আইনবিষয়ক সম্মেলনে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসফিন তাসেউ এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, উড়োজাহাজ পরিচালনার সময় সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের প্রতিষ্ঠান কার্বন ক্রেডিট ক্রয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) প্রণীত ‘করসিয়া’ (CORSIA) কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট সীমার অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের জন্য বিমান সংস্থাগুলোকে ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কার্বন ক্রেডিট কিনতে হচ্ছে। তবে মেসফিন তাসেউ আশঙ্কা করছেন, আগামী দিনগুলোতে এ বাবদ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি আফ্রিকান দেশগুলোতে নতুন করে আরোপিত কার্বনসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি-এর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একই ধরনের পরিবেশগত বিষয়ে একাধিক বিধিনিষেধ ও ফি আরোপের ফলে বিমান সংস্থাগুলোর পক্ষে নিয়ম মেনে চলা দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।

পরিবেশগত বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি টেকসই বিমান জ্বালানি (এসএএফ) ব্যবহারের সীমাবদ্ধতাও বড় উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে টেকসই বিমান জ্বালানির উৎপাদন ২৪ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকলেও, তা মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হবে। উচ্চমূল্য এবং সহজলভ্যতার অভাবে এই জ্বালানি ব্যবহার করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফ্রিকার বিমান চলাচল খাতের আর্থিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে পরিচালন ব্যয় বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া কর ও ভোক্তা সুরক্ষা বিধিনিষেধের কারণেও খরচ বাড়ছে। আফ্রিকান এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে মহাদেশটির দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের মাথাপিছু গড়ে ৬৮ মার্কিন ডলার কর, ফি ও চার্জ প্রদান করতে হয়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ব্যয় ৬০ লাখ ডলার

আপডেট সময় : ০৯:২৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বাধ্যবাধকতা পূরণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই সংস্থাটি কার্বন নিঃসরণ কমানোর নিয়ম মেনে চলতে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। আদ্দিস আবাবায় আয়োজিত পূর্ব আফ্রিকান সম্প্রদায়ের চতুর্থ অভ্যন্তরীণ আইনবিষয়ক সম্মেলনে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসফিন তাসেউ এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, উড়োজাহাজ পরিচালনার সময় সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের প্রতিষ্ঠান কার্বন ক্রেডিট ক্রয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) প্রণীত ‘করসিয়া’ (CORSIA) কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট সীমার অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের জন্য বিমান সংস্থাগুলোকে ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কার্বন ক্রেডিট কিনতে হচ্ছে। তবে মেসফিন তাসেউ আশঙ্কা করছেন, আগামী দিনগুলোতে এ বাবদ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি আফ্রিকান দেশগুলোতে নতুন করে আরোপিত কার্বনসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি-এর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একই ধরনের পরিবেশগত বিষয়ে একাধিক বিধিনিষেধ ও ফি আরোপের ফলে বিমান সংস্থাগুলোর পক্ষে নিয়ম মেনে চলা দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।

পরিবেশগত বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি টেকসই বিমান জ্বালানি (এসএএফ) ব্যবহারের সীমাবদ্ধতাও বড় উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে টেকসই বিমান জ্বালানির উৎপাদন ২৪ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকলেও, তা মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হবে। উচ্চমূল্য এবং সহজলভ্যতার অভাবে এই জ্বালানি ব্যবহার করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আফ্রিকার বিমান চলাচল খাতের আর্থিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে পরিচালন ব্যয় বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া কর ও ভোক্তা সুরক্ষা বিধিনিষেধের কারণেও খরচ বাড়ছে। আফ্রিকান এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে মহাদেশটির দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের মাথাপিছু গড়ে ৬৮ মার্কিন ডলার কর, ফি ও চার্জ প্রদান করতে হয়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ছে।