ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত সরকারের: চিফ হুইপ সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অক্টোবরেই ফিরছে স্বাভাবিক ফ্লাইট লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রহস্যজনক অন্তর্ধানের ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সমর্থকদের নিয়ে শপথ নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের উত্থান: গত ২৫ বছরে আমূল বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের বরণে প্রস্তুত দিল্লি, মোদির সঙ্গে পুতিন-পেজেশকিয়ানের বৈঠক আজ একতরফা আধিপত্য রুখতে ব্রিকসের ওপর জোর দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এআই কি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি? বড় সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ শনিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন, পুতিনসহ যোগ দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা

কোভিড ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত : প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১
  • / 268
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

কোভিড-১৯ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বলেছেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।

তিনি উল্লেখ করেন যে, করোনা মহামারী আমাদেরকে মানব ইতিহাসের এক চূড়ান্ত পথে নিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত আমাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে।

তিনি বলেন, ‘মহামারীর আর্থ-সামাজিক প্রভাব ব্যাপক এবং এখনো পর্যন্ত তা বাড়ছে। সুতরাং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্বকে আরো জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

‘পরিবর্তনের একটি বিশ্ব : বৈশ্বিক গভর্নেন্স শক্তিশালী করা এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিত’ শীর্ষক চার দিনের বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া’র (বিএএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূর্ব রেকর্ড করা ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

অংশীদারিত্ব এবং সংযোগ
শেখ হাসিনা তিনটি বিষয়ে মনোনিবেশ করেন –
প্রথমত, মহামারীর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য দৃঢ় অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা এবং বিশ্বব্যাপী জনসাধারণের পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে ভ্যাকসিনগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করা।

দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য একসাথে কাজ করার প্রয়োজনয়ীতা এবং তৃতীয়, বিরামবিহীন শারীরিক এবং ডিজিটাল সংযোগ।

তিনি বলেন, ‘আসুন একসাথে চিন্তা করি, একসাথে কাজ করি এবং একসাথে এগিয়ে যাই।’

আরো তহবিল গঠন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারী সঙ্কট চলাকালীন কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়েরর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, সব দেশকে জাতিসঙ্ঘ এবং অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর করার জন্য একসাথে কাজ করা দরকার যাতে প্রত্যেকের ভ্যাকসিন এবং চিকিত্সার প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ডব্লিউএইচও, জিএভিআই এবং অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রের অধিকার, সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোকে অন্যদের সার্বজনীন ভ্যাকসিনের কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে তাদের উত্পাদন করতে সহায়তা করা উচিত।

তিনি বলেন, এই সঙ্কটময় সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাও আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিল থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আরো বেশি সহায়তা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ মহামারীর বিরূপ প্রভাব হ্রাস করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আমরা এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি যা আমাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।’

তিনি উল্লেখ করেন যে, সার্ক, বিমসটেক, এসএএসইসি, বিবিআইএন ও বিসিআেএম’র মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত।

‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরেও বহু মাল্টি মডেল লিংকেজের সাথে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বৈশ্বিক গভর্নেন্স শক্তিশালী করা এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে,’ বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, এই মহাদেশে বিপুল জনসংখ্যা, বিস্তৃত বাজার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে আরো দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি। এটি আমাদের এসডিজি অর্জন করতেও সহায়তা করবে যা আমরা প্রত্যেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একে অপরের সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা বাড়ানো দরকার।
সূত্র : ইউএনবি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কোভিড ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

কোভিড-১৯ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বলেছেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।

তিনি উল্লেখ করেন যে, করোনা মহামারী আমাদেরকে মানব ইতিহাসের এক চূড়ান্ত পথে নিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত আমাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে।

তিনি বলেন, ‘মহামারীর আর্থ-সামাজিক প্রভাব ব্যাপক এবং এখনো পর্যন্ত তা বাড়ছে। সুতরাং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্বকে আরো জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

‘পরিবর্তনের একটি বিশ্ব : বৈশ্বিক গভর্নেন্স শক্তিশালী করা এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিত’ শীর্ষক চার দিনের বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া’র (বিএএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূর্ব রেকর্ড করা ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

অংশীদারিত্ব এবং সংযোগ
শেখ হাসিনা তিনটি বিষয়ে মনোনিবেশ করেন –
প্রথমত, মহামারীর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য দৃঢ় অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা এবং বিশ্বব্যাপী জনসাধারণের পণ্য হিসেবে ঘোষণা করে ভ্যাকসিনগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করা।

দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য একসাথে কাজ করার প্রয়োজনয়ীতা এবং তৃতীয়, বিরামবিহীন শারীরিক এবং ডিজিটাল সংযোগ।

তিনি বলেন, ‘আসুন একসাথে চিন্তা করি, একসাথে কাজ করি এবং একসাথে এগিয়ে যাই।’

আরো তহবিল গঠন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারী সঙ্কট চলাকালীন কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়েরর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, সব দেশকে জাতিসঙ্ঘ এবং অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর করার জন্য একসাথে কাজ করা দরকার যাতে প্রত্যেকের ভ্যাকসিন এবং চিকিত্সার প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ডব্লিউএইচও, জিএভিআই এবং অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রের অধিকার, সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোকে অন্যদের সার্বজনীন ভ্যাকসিনের কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে তাদের উত্পাদন করতে সহায়তা করা উচিত।

তিনি বলেন, এই সঙ্কটময় সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাও আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিল থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আরো বেশি সহায়তা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ মহামারীর বিরূপ প্রভাব হ্রাস করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আমরা এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি যা আমাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।’

তিনি উল্লেখ করেন যে, সার্ক, বিমসটেক, এসএএসইসি, বিবিআইএন ও বিসিআেএম’র মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত।

‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরেও বহু মাল্টি মডেল লিংকেজের সাথে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বৈশ্বিক গভর্নেন্স শক্তিশালী করা এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে,’ বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, এই মহাদেশে বিপুল জনসংখ্যা, বিস্তৃত বাজার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে আরো দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি। এটি আমাদের এসডিজি অর্জন করতেও সহায়তা করবে যা আমরা প্রত্যেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একে অপরের সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা বাড়ানো দরকার।
সূত্র : ইউএনবি

বিডিসংবাদ/এএইচএস