ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু

চুল কাটতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশুর পঙ্গু অবস্থায় ফেরা নিয়ে চাঞ্চল্য

  • আপডেট সময় : ১২:১০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 27
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সাত মাস পর পঙ্গু অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দীনের ছেলে সে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় এক পায়ে ভর দিয়ে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয়রা তাকে চিনতে পেরে পরিবারের কাছে খবর দেন। উদ্ধার হওয়া রায়হানের শরীরের ডান পা নেই এবং পেটের ডান পাশে ও পিঠে অস্ত্রোপচারের গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

রায়হানের ভাষ্যমতে, চুল কাটার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে কক্সবাজার চলে যায়। সেখানে পরিচয়ের সূত্রে ট্রেনের ছাদে চড়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়। পরে অজ্ঞাতপরিচয় একটি চক্র তাকে বাগানের মাঝখানের একটি ঘরে আটকে রাখে, যেখানে তার মতো আরও অনেক শিশুকে দেখা গেছে। এক রাতে ঘুমের পর সকালে উঠে সে নিজের একটি পা দেখতে পায়নি। অপহরণকারীরা দাবি করে, ট্রেনে দুর্ঘটনায় তার পা কাটা পড়েছে। এরপর থেকে তাকে দিয়ে নিয়মিত ভিক্ষা করানো হতো এবং উপার্জিত টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হতো।

নিখোঁজের ওই সময়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে এক ভিডিও নির্মাতার ক্যামেরায় রায়হানকে বলতে দেখা গিয়েছিল যে, পারিবারিক কলহ ও বাবার কারাবাস নিয়ে অভিমান করে সে ঢাকায় এসেছে। তবে স্বজনদের দাবি, এটি অপহরণচক্রের শেখানো বুলি হতে পারে। রায়হানের সৎমা ফয়জুন্নেসার অভিযোগ, অভাবী পরিবার হওয়ায় ছেলেকে হারানোর পর তারা ভেঙে পড়েছিলেন। এখন তাকে এই নিষ্ঠুর অবস্থায় ফিরিয়ে পেয়ে তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সরকারি সহায়তা দাবি করছেন।

পরিবারের অভিযোগ, রায়হান ফিরে আসার পর লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়নি। লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও তদন্ত পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানিয়েছেন, ঘটনার মূলস্থল কমলাপুর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবার জানায়, নিখোঁজের সময় তাদের থানায় কোনো অভিযোগ না থাকায় এই জট তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তৈয়ুবুল্লাহ শিশুটির ওপর চালানো এই অমানবিক নির্যাতনের কঠোর বিচার দাবি করেছেন। মানবাধিকারকর্মী দেলোয়ার হোসেন রশিদী রায়হানের শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনাবেচার যে সন্দেহের কথা শোনা যাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশু নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তাদের ধারণা অনুযায়ী, গত সাত মাসে প্রায় ১৪ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

সংস্থাটির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, নিখোঁজ হওয়া প্রতিটি শিশুকে কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। পাচারকারী চক্র ও অঙ্গ পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রতিটি ঘটনার গভীর তদন্ত প্রয়োজন। তিনি দেশব্যাপী ‘মুন অ্যালার্ট’ বা জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা এবং নিখোঁজ শিশুদের একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

রায়হানের এই পঙ্গু হয়ে ফিরে আসা সমাজের নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষায় বড় এক প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। আসলেই এই সাত মাসে শিশুটির ওপর দিয়ে কী ধরনের বর্বরতা চালানো হয়েছে, কারা এর পেছনে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাটা হলো—তা উন্মোচনে যথাযথ আইনি তদন্তের অপেক্ষায় এলাকাবাসী। বর্তমানে পরিবারটি অসহায়ত্বের কারণে উচ্চতর আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবারের সন্দেহ, শিশুটিকে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার পাশাপাশি তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর কয়েকজন লোক তাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে চারপাশে বাগান আর মাঝখানে একটি ঘর ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভিক্ষার টাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাংকে জমা রাখা হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুই পুরুষ ও সালমা নামের এক নারী ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একপর্যায়ে তাকে বাসে তুলে দেওয়া হলে সে চুনতির মাহফিল এলাকায় চলে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকায় গিয়ে মামলা করার সামর্থ্য আমার নেই’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, তার ছেলে হেফজখানায় পড়ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

চুল কাটতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশুর পঙ্গু অবস্থায় ফেরা নিয়ে চাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ১২:১০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সাত মাস পর পঙ্গু অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দীনের ছেলে সে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে চুনতি সীরাত মাহফিল এলাকায় এক পায়ে ভর দিয়ে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয়রা তাকে চিনতে পেরে পরিবারের কাছে খবর দেন। উদ্ধার হওয়া রায়হানের শরীরের ডান পা নেই এবং পেটের ডান পাশে ও পিঠে অস্ত্রোপচারের গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

রায়হানের ভাষ্যমতে, চুল কাটার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে কক্সবাজার চলে যায়। সেখানে পরিচয়ের সূত্রে ট্রেনের ছাদে চড়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়। পরে অজ্ঞাতপরিচয় একটি চক্র তাকে বাগানের মাঝখানের একটি ঘরে আটকে রাখে, যেখানে তার মতো আরও অনেক শিশুকে দেখা গেছে। এক রাতে ঘুমের পর সকালে উঠে সে নিজের একটি পা দেখতে পায়নি। অপহরণকারীরা দাবি করে, ট্রেনে দুর্ঘটনায় তার পা কাটা পড়েছে। এরপর থেকে তাকে দিয়ে নিয়মিত ভিক্ষা করানো হতো এবং উপার্জিত টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হতো।

নিখোঁজের ওই সময়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে এক ভিডিও নির্মাতার ক্যামেরায় রায়হানকে বলতে দেখা গিয়েছিল যে, পারিবারিক কলহ ও বাবার কারাবাস নিয়ে অভিমান করে সে ঢাকায় এসেছে। তবে স্বজনদের দাবি, এটি অপহরণচক্রের শেখানো বুলি হতে পারে। রায়হানের সৎমা ফয়জুন্নেসার অভিযোগ, অভাবী পরিবার হওয়ায় ছেলেকে হারানোর পর তারা ভেঙে পড়েছিলেন। এখন তাকে এই নিষ্ঠুর অবস্থায় ফিরিয়ে পেয়ে তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সরকারি সহায়তা দাবি করছেন।

পরিবারের অভিযোগ, রায়হান ফিরে আসার পর লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়নি। লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও তদন্ত পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানিয়েছেন, ঘটনার মূলস্থল কমলাপুর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবার জানায়, নিখোঁজের সময় তাদের থানায় কোনো অভিযোগ না থাকায় এই জট তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তৈয়ুবুল্লাহ শিশুটির ওপর চালানো এই অমানবিক নির্যাতনের কঠোর বিচার দাবি করেছেন। মানবাধিকারকর্মী দেলোয়ার হোসেন রশিদী রায়হানের শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনাবেচার যে সন্দেহের কথা শোনা যাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশু নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তাদের ধারণা অনুযায়ী, গত সাত মাসে প্রায় ১৪ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

সংস্থাটির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, নিখোঁজ হওয়া প্রতিটি শিশুকে কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। পাচারকারী চক্র ও অঙ্গ পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রতিটি ঘটনার গভীর তদন্ত প্রয়োজন। তিনি দেশব্যাপী ‘মুন অ্যালার্ট’ বা জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা এবং নিখোঁজ শিশুদের একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

রায়হানের এই পঙ্গু হয়ে ফিরে আসা সমাজের নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষায় বড় এক প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। আসলেই এই সাত মাসে শিশুটির ওপর দিয়ে কী ধরনের বর্বরতা চালানো হয়েছে, কারা এর পেছনে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাটা হলো—তা উন্মোচনে যথাযথ আইনি তদন্তের অপেক্ষায় এলাকাবাসী। বর্তমানে পরিবারটি অসহায়ত্বের কারণে উচ্চতর আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবারের সন্দেহ, শিশুটিকে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার পাশাপাশি তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর কয়েকজন লোক তাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে চারপাশে বাগান আর মাঝখানে একটি ঘর ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভিক্ষার টাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাংকে জমা রাখা হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুই পুরুষ ও সালমা নামের এক নারী ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একপর্যায়ে তাকে বাসে তুলে দেওয়া হলে সে চুনতির মাহফিল এলাকায় চলে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকায় গিয়ে মামলা করার সামর্থ্য আমার নেই’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, তার ছেলে হেফজখানায় পড়ত।